নয়াদিল্লি: তার প্রতিভা প্রশ্নাতীত। ইতিমধ্যেই নিজের দক্ষতায় অনূর্ধ্ব ১৯ থেকে আইপিএলের মঞ্চ মাতিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। যশপ্রীত বুমরা, জশ হ্যাজেলউডের মতো বোলারদের বল অবলীলায় বাউন্ডারি পার করেছে ১৫ বছরের তরুণ। তবে বারংবার প্রশ্ন উঠে বৈভবের বয়স কি আদৌ সঠিক দেখানো হচ্ছে?
বিসিসিআই (BCCI) বয়স নির্ধারণের জন্য হাড়ের এক ধরনের পরীক্ষা করে। আজ থেকে সাত বছর আগে, বৈভবেরও সেই পরীক্ষা হয়েছিল। যখন বৈভবের প্রতিভার পাশাপাশি, তার বয়স নিয়ে এত চর্চা, আলোচনা হচ্ছে, তখনই সেখানে সেই সাত বছর পুরনো পরীক্ষার ফলাফল সদ্যই সর্বসমক্ষে উঠে এসেছে। ভাইরাল সেই পোস্টের দাবি অনুযায়ী ২০১৯-২০ সালে বৈভব সূর্যবংশী যখন অনূর্ধ্ব ১৬ ক্রিকেট খেলছিল, তখনই তার হাড়ের এই পরীক্ষা করা হয়। সেইসময় বৈভবের বয়স ছিল সাড়ে আট বছরের আশেপাশে।
বিসিসিআইয়ের দুই ভিন্ন পরীক্ষায় বৈভবের বয়স সেই সময় ১০ বছর চার মাস ও ১০ বছর এক মাস ধরা পড়েছিল। এবার অনেকেই ভাবেনন তাহলে বৈভব বয়স ভাঁড়িয়ে খেলছে, তাদের দাবি তো তাহলে সত্যি। উত্তর না। এই পরীক্ষার ফলাফল একেবারে সঠিক হয় না। এই পরীক্ষায় কারুর আসল বয়সের সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলে প্রাপ্ত বয়সের ব্যবধান যদি দুই বছরের আশেপাশে থাকে, তাহলে তা ঠিকঠাকই বলে ধরা হয়। বৈভবের বয়সও সেই গণ্ডির মধ্যেই ছিল। তাই তার বয়স ভাঁড়িয়ে খেলার অভিযোগ ভুলই প্রমাণিত হচ্ছে, যে কথা তার বাবা বারংবার এতদিন বলে এসেছেন।
ওই একই সময়ে কিন্তু আরও ৫৭জন ক্রিকেটারের তখনকার বয়সের থেকে হাড় পরীক্ষা করার পর বেরিয়ে আসা বয়সের মধ্যে সাড়ে তিন থেকে চার বছরের পার্থক্য ধরা পড়েছিল। পোস্ট অনুযায়ী সেই ক্রিকেটারদেরও বিসিসিআই ছাড়পত্র দিয়েছিল। সেখানে তো বৈভবের বয়সের পার্থক্য দুই বছরেরও কম ছিল। তাই সময় এসেছে বৈভবের বয়স নিয়ে চর্চা থামিয়ে, তার প্রতিভাকে বাহবা দেওয়ার।
এমন প্রতিভা যে বিরল, তা বলাই বাহুল্য। মাত্র ১৫ বছর বয়সে না হলে কেউ বিশ্ববন্দিত বোলারদের শুধু খেলা নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে রীতিমতো ব্যাট হাতে শাসন করতে পারে না। আইপিএলের অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে শীর্ষে থাকতে পারে না।
