বেবি পাউডার থেকে ক্যান্সার? ভূরি ভূরি অভিযোগ-মামলা, ৫৩০০০ কোটি দিয়ে মেটাতে প্রস্তুত জনসন অ্যান্ড জনসন

ফের খবরের শিরোনামে জনসন অ্যান্ড জনসন (Johnson & Johnson). তাদের বেবি পাউডার এবং Talc-সামগ্রী ব্যবহারে ক্যান্সার হয় বলে ভূরি ভূরি অভিযোগ। মোটা টাকার বিনিময়ে সেই সময় মামলার নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগী হল Johnson & Johnson.

Johnson & Johnson-এর বেবি পাউডার এবং Talc ভিত্তিক সামগ্রী ব্যবহারে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার হয় বলে হাজার হাজার মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সব মামলার নিষ্পত্তি করতে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হল Johnson & Johnson, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

কোনও সংস্থার তৈরি পণ্য নিয়ে দায়বদ্ধতার প্রশ্নে বহু দিন ধরেই জর্জরিত Johnson & Johnson. কর্পোরের্ট জগতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এবং দীর্ঘতম আইনি লড়াই চলছিল। মোটা টাকার বিনিময়ে এবার সেই লড়াইয়ে ইতি টানতে চাইছে Johnson & Johnson.

Johnson & Johnson-এর বিরুদ্ধে আমেরিকার বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৭৬০০০ মামলা চলছিল। ৫২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিনিময়ে মামলা নিষ্পত্তির যে প্রস্তাব দিয়েছে Johnson & Johnson, ৯৫ শতাংশ মামলাকারী দাবি হলেই তা কার্যকর হবে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মামলায় জর্জরিত Johnson & Johnson. তিন তিন বার নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণার চেষ্টাও করে তারা, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

তবে Johnson & Johnson-এর পণ্য ঘিরে ভূরি ভূরি অভিযোগ থাকলেও, এখনও পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় তারা। সংস্থার দাবি, তাদের পণ্যে অ্যাসবেস্টস নেই, যা ক্যান্সারের জন্য় দায়ী বলে অভিযোগ উঠে আসছে বরাবর। তাহলে কেন টাকার বিনিময়ে মিটমাট করতে হচ্ছে? সংস্থার যুক্তি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিন্তু বছরের পর বছর মামলা চালাতে প্রচুর অর্থক্ষয় হচ্ছে। তাই বিষয়টিতে ইতি টানতে চাইছে।

Johnson & Johnson-এর মামলা সংক্রান্ত বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস রয়টার্সকে বলেন, “মামলায় জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আমরা। একাধিক ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটেছেও। কিন্তু এবার সব কিছু পিছনে ফেলে, ভবিষ্যতের দিকে এগনোর সময় এসেছে। ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী তৈরিতেই মনোনিবেশ করে, মানুষের প্রাণ বাঁচানোর উপরই বেশি গুরুত্ব দিতে চাই আমরা।”

এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার মিটিয়ে দিতে প্রস্তুত Johnson & Johnson. বাকি টাকা মেটানো হবে ২০২৮ সালের মধ্যে। তবে মামলাকারীরা সম্মত হলে তবেই বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘটবে। মামলাকারীদের আইনজীবী ক্রিস সিগারের মতে, সবের নিষ্পত্তি ঘটাতে ৭ বিলিয়ন ডলার দিতে হতে পারে Johnson & Johnson-কে।

তবে টাকার বিনিময়ে মামলার নিষ্পত্তির চেষ্টা ঘিরেও প্রশ্ন উঠছে। এত গুরুতর অভিযোগ যেখানে, দায়বদ্ধতার প্রশ্ন জড়িয়ে সেখানে, টাকার বিনিময়ে Johnson & Johnson মুক্তি পেতে পারে কি না, প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। কারণ ওই সংস্থার পণ্য ব্যবহার করে বহু মহিলা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ।

২০০৯ সাল থেকে পর পর মামলা হয়ে আসছে Johnson & Johnson-এর বিরুদ্ধে। মামলাকারীদের দাবি, Talc একটি প্রাকৃতিক খনিজ, যার মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন রয়েছে। কিন্তু মাটি খনন করে Talc তুলে আনা হয়, তাতে অ্যাসবেস্টস মিশে যাতে, যা ক্যান্সার সৃষ্টি করে। যদিও Johnson & Johnson-এর দাবি, তাদের পণ্য একেবারে নিরাপদ।

২০২২ সালে Johnson & Johnson জানায়, তারা আর Talc নির্ভর বেবি পাউডার তৈরি করবে না, বিক্রিও করবে না। পরিবর্তে কর্নস্টার্চ দিয়ে তৈরি বেবি পাউডার বিক্রি করা হবে। প্রথমে আমেরিকা এবং কানাডায় Talc পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয় তারা। পরবর্তীতে অন্যত্রও একই পদক্ষেপ করে।
Published at : 28 Jul 2026 04:38 PM (IST)
