নয়াদিল্লি: ভারত মহাসাগরে রকেট বিস্ফোরণ। উড়ান সম্পূর্ণ করে নীল জল ছুঁয়েছিল সবে। চোখের পলক ফেলার আগেই তীব্র বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আগুনের গোলা ছাড়া কিছু চোখে পড়ার উপায় ছিল না। উত্তাল হয়ে ওঠে জলরাশি। পরীক্ষামূলক উড়ান সফল হওয়ার পর জলে নামানো হচ্ছিল রকেটটিকে। (SpaceX Starship Splashdown)
ধনকুবের ইলন মাস্কের সংস্থা SpaceX-এর প্রকাণ্ড আকারের রকেটটি নিয়ে পরীক্ষা চলছিল। টেক্সাসের Starbase থেকে সেটি উৎক্ষেপণ করা হয়। আগামী দিনে ওই রকেটই চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। মহাকাশে উড়ান সম্পূর্ণ হওয়ার পর ভারত মহাসাগরে সেটিকে অবতরণ করানো হচ্ছিল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। (SpaceX Starship Explodes)
Splashdown confirmed! Congratulations to the entire SpaceX team on the twelfth flight test of Starship! pic.twitter.com/XXBAtryPpL
— SpaceX (@SpaceX) May 22, 2026
আরও পড়ুন: কালই পৃথিবীর আকাশে প্রকাণ্ড গ্রহাণু, নীল তিমির সমান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই হয় আবিষ্কার
আগাগোড়া রকেটটির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। রকেটের বুস্টার বা উপরের অংশটিকে রক্ষা করা লক্ষ্যও ছিল না SpaceX-এর। বরং পরিকল্পিত ভাবে সেটিকে নামানো হবে বলে ঠিক ছিল। সেই মতো বুস্টার থেকে আলাদা হওয়ার পর জল ছোঁয় রকেটটি। এতে উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙে বিজ্ঞানীদের মধ্যে। ১২তম উড়ান সফল হওয়ার জন্য বিজ্ঞানীদের অভিনন্দনও জানায় SpaceX.
আরও পড়ুন: সূর্যাস্তের পরও বেজায় গরম, নিজের ঘরেই টেকা যাচ্ছে না, কেন হচ্ছে এমন?
এর পরই দেখা যায়, উত্তাল জলরাশির মধ্যেও রকেটের পিছনের অংশে আগুন জ্বলছে। সেটি একদিকে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিধ্বংসী আগুনে ঢেকে যায় চারিদিক। হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরমাণু হামলার সময় ছত্রাকের আকারে যেভাবে আগুনের গোলাকেকে আকাশ ছুঁতে দেখা গিয়েছিল, সেভাবেই ভারত মহাসাগরের উপর আগুনের গোলার সৃষ্টি হয়। বেশ কিছু ক্ষণ ওই অবস্থায় দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে চারিদিক। একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় রকেটটি।
এমনিতেই অত্যন্ত ভারী রকেটটির উড়ানকে ঘিরে শুরু থেকেই বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তবে SpaceX-এর দাবি, রকেটটির বুস্টার বা আপার স্টেজ, কোনওটিই অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়া লক্ষ্য় ছিল না তাদের। ভারত মহাসাগরে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
উড্ডীয়মান অবস্থায় রকেটটি মহাকাশে জটিল কার্য সম্পন্ন করে। খাড়া অবস্থানে থেকে নিজের শরীর ঘুরিয়ে নিতে হয় সেটিকে। পৃথিবীক বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের আগে চালু করতে হয় ইঞ্জিনগুলিও। সেই সময় যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দেয়। মহাকাশে ২২টি ‘মক’ স্যাটেলাইটও বসিয়ে এসেছে রকেটটি, যার মধ্যে দু’টি ‘মক’ স্যাটেলাইট রকেটটির ছবিও তোলার চেষ্টা করে, যাতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় তার পারফর্ম্যান্স বুঝতে পারেন বিজ্ঞানীরা।
যদিও মসৃণ ভাবে গোটা বিষয়টি এগোয়নি। SpaceX-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যে কক্ষপথে রকেটটিকে পাঠানোর লক্ষ্য ছিল, তার পরিবর্তে অন্য একটি কক্ষপথ ধরে সেটি। কারণ একটি ইঞ্জিন শুরুতেই বিকল হয়ে গিয়েছিল। আপার স্টেজটি থেকে আলাদা হওয়ার সময়ও সমস্যা দেখা দেয়। বুস্টারটিকে নিয়ন্ত্রিত ভাবে মেক্সিকো উপসাগরে নামানোর পরিকল্পনা থাকলেও, সেটি অনিয়ন্ত্রিত ভাবে আছড়ে পড়ে।
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র আর্টেমিস অভিযানের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে SpaceX. মহাকাশচারীদের চাঁদের মাটিতে নিরাপদে পৌঁছে দিতে তাদেরই মহাকাশযান তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে NASA. ২০২৮ সালের মধ্য়েই ফের চাঁদের মাটিতে পদার্পণ করাই লক্ষ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য়ে কাজ করছে চিনও। আবার জেফ বেজোসের Blue Origin-ও চাঁদে অবতরণের প্রযুক্তি তৈরির কাজ করছে। মহাকাশ অভিযানকে ঘিরে এই প্রতিযোগিতা যদিও ভাল ভাবে দেখছে না বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দৌড়ঝাঁপের চেয়ে গুণমান, নিরাপত্তার উপর জোর দেওয়ার পক্ষপাতী তাঁরা।
