নয়াদিল্লি: মরুভূমির বুকে লঞ্চপ্যাডের আস্ত নেটওয়র্ক গড়ে তুলছে চিন। কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবি দেখে এবার এমনই তথ্য সামনে এল। নিজেদের পারমাণবিক শক্তিকে আরও জোরদার করে তুলতে তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মঞ্চ, যোগাযোগ পরিকাঠামো এবং সামরিক দুর্গ গড়ে তুলছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য কি আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে চিন? (China Nuclear Missile Silos)
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বিষয়টি সামনে এনেছে। স্যাটেলাইটের তোলা ছবি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমের মরুভূমি, শিনজিয়াং এবং গানশুতে বিরাট সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে চিন। সেখানেই চিনের সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলি মোতায়েন রয়েছে, যা কি না এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে হামলা চালাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যাতে প্রথমে হামলা করতে না পারে, আঘাত নেমে এলেও যাতে তা প্রতিহত করা যায়, তার জন্যই আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে চিন। (China News)
☢️🇨🇳 La Chine renforce discrètement son bouclier nucléaire dans le désert du Xinjiang.
Une enquête de Reuters fondée sur l’analyse d’images satellites met en lumière l’extension d’un vaste réseau d’infrastructures militaires autour des principaux champs de missiles nucléaires du… pic.twitter.com/NaQXKqqyz6
— Xplora (@XploraSpace) May 30, 2026
আরও পড়ুন: ফের টাকার চেহারা বদল? কাগজ নয়, এবার প্লাস্টিকের নোট চালুর ভাবনা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের।
চিনের হাতে এমন শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা আমেরিকার যে কোনও শহরে হামলা চালাতে পারে। সেই আবহেই স্যাটেলাইটের তোলা ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে, পর পর বহু লঞ্চপ্যাড গড়ে তুলছে চিন। গড়ে তোলা হচ্ছে বাঙ্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থা। ‘হামি পারমাণবিক কেন্দ্রে’র কাছে এখনও পর্যন্ত ৮০টির বেশি লঞ্চপ্য়াড গড়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি রয়টার্সের। অষ্টভুজাকার নির্মাণ চোখে পড়েছে তিনটি। উত্তর-পশ্চিমের ওই মরুভূমিতে চিনের Nuclear Silos রয়েছে, অর্থাৎ মাটির নীচে গভীর ও সুরক্ষিত সুড়ঙ্গ তৈরি করে পরমাণু অস্ত্রশস্ত্র মজুত রাখা হয়েছে। যাতে, প্রয়োজনে সেখান থেকেই সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপ করা যায়, তাই এই নির্মাণকার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, ৮০টিরও বেশি এমন লঞ্চপ্যাড রয়েছে, যা চিনের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযানের ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে। পাশাপাশি, বায়ুসেনার ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে সেগুলিকে। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিন যুদ্ধ, স্যাটেলাইট সংযোগ এবং কম্যান্ড অপারেশন কেন্দ্রও গড়ে তোলা হয়েছে বলে মত তিন সামরিক বিশেষজ্ঞকের। এর আগে এত বড় মাত্রায় সামরিক নির্মাণকার্য চালাতে দেখা যায়নি চিনকে। নিজেদের পারমাণবিক শক্তিকে রক্ষা করাই নয় শুধু, সেকেন্ডের মধ্যে হামলার জবাব দিতেও চিনের এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে সংঘাত যখন বাড়ছে, সেই সময় তাদের এই পদক্ষেপ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
কংক্রিকেটের লঞ্চপ্যাডও চোখে পড়েছে চিনের মরুভূমিতে। সেই নিয়ে Hawaii Pacific Forum-এর অ্যালেকজান্ডার নাইলের বক্তব্য, “বিরাট পরিকাঠামো চোখে পড়ছে, হাজার হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে। পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ চোখে পড়ছে বেশ ভাল রকম।” মরুভূমিতে নিজেদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারকে রক্ষা করতে ঘোষিত ভাবেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চিন। তবে তারাও প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের পক্ষে নয়। বরং শত্রুর থেকে আঘাত নেমে এলে, পাল্টা জবাবে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের নীতি নিয়ে চলে চিন। চিনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি সাবমেরিন এবং বিমান থেকে পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে। তবে উত্তর-পশ্চিমের শিনজিয়াং এবং গানসুই তাদের প্রধান পরমাণু ঘাঁটি।
Meanwhile, #China is upping their likely strategic #nuclear capacity while we run way over budget on our land-based leg of the nuclear triad with the #Sentinel program. https://t.co/hoYITDpUDH
— Greg R. Lawson (@ConservaWonk) May 29, 2026
যদিও পিপলস লিবারেশন আর্মি সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান থেকে পারমাণবিক অস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম, তবুও উত্তর-পশ্চিমের শিনচিয়াং অঞ্চল এবং গানসু প্রদেশে অবস্থিত সাইলো ক্ষেত্রগুলোই তাদের পারমাণবিক বাহিনীর মূল কেন্দ্রবিন্দু। যে অষ্টভুজাকার নির্মাণ চোখে পড়েছে মরুভূমিতে, ‘হামি পারমাণবিক কেন্দ্র’ থেকে তার দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার। স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, ওই অষ্টভুজাকার পরিঠামোর ভিতরে সেনা মোতায়েন রয়েছে। রয়েছেন বড় বড় যান। চারিদিকে পর পর বাঙ্কারও তৈরি করা হয়েছে সেখানে। রয়েছে অস্ত্রাগার, বায়ুসেনা ঘাঁটি, রসদ সরবরাহের রেলপথও। Lop Nur পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের কাছে তৃতীয় একটি অষ্টভুজাকার নির্মাণ চোখে পড়েছে, যা আসলে নিশানা হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তাতে ক্ষয়ক্ষতি চোখে পড়েছে। নকল যুদ্ধবিমানও রয়েছে সেখানে।
এমনিতেই চিন এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাত বরাবরের। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও ভিন্ন অবস্থানে দেখা যায় দুই দেশকে। সম্প্রতি তাইওয়ান নিয়েও ফের নতুন করে সংঘাত মাথাচাড়া দিয়েছে। চলতি মাসেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাইওয়ান নিয়ে কোনও রকম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দেন। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চিন। তাইওয়ান যদিও চিনের কর্তৃত্ব মানতে নারাজ। আমেরিকা তাইওয়ানকে সমর্থন করে। চিন এবং আমেরিকার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র নিয়েও প্রতিযোগিতা রয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০০ ওয়ারহেড তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে চিনের। তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে ১০০টি ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল রেডি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, সতর্কতা প্রযুক্তি Huoyan-1 স্যাটেলাইট রয়েছে তাদের। ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ঝুঁকি থাকলে, উৎক্ষেপণের ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে তা ধরে ফেলে জানান দেয় তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে। স্যাটেলাইটের তোলা ছবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেজিং এবং পেন্টাগন।
