কলকাতা: জুলাই মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) দাখিল করতে হয়। আর রিটার্ন (ITR) দাখিল করার সময় অধিকাংশ করদাতাই মূলত বেতনের তথ্যের উপরই জোর দেন। তবে আয়কর নিয়ম কিন্তু অন্য কথা বলছে। সেখানে বলা হয়েছে শুধু বেতন থেকে প্রাপ্ত উপার্জন নয়, আরও একাধিক অর্থনৈতিক তথ্যও জম দিতে হয়। নাহলে আগামীতে জরিমানার মুখে পড়ওতে হতে পারে করদাতাকে বা রিফান্ড পেতেও সমস্যা হতে পারে।
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে শুধু বেতন থেকে প্রাপ্ত টাকাই আসল উপার্জন নয়। এর পাশাপাশি মহার্ঘ ভাতা (DA), হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA), লিভ ট্রাভেল অ্যালাউন্স (LTA), বোনাস, ইনসেনটিভ, বিশেষ ভাতা এবং অন্যান্য প্রাপ্ত সুবিধার উপরও স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হয়। যে কোনও অর্থনৈতিক বছরের শেষে যে সংস্থায় করদাতা চাকরি করেন, সেই সংস্থা Form 16 দিয়ে থাকে। তবে রিটার্ন দাখিল করার আগে Annual Information Statement (AIS), Form 26AS এবং বেতনের নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
যে কোনও অর্থনৈতিক বছরে যে যে উৎস থেকে উপার্জন করা হয়ছে, সেই সব করযোগ্য উপার্জনের তথ্য উল্লেখ করতে হবে রিটার্ন ফাইলে। কোনও আয়ের উৎস গোপন থাকলে কর সংক্রান্ত একাধিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: সপ্তাহের শেষ দিন রাজ্য জুড়ে বৃষ্টি, কোথাও হালকা, কোথাও ভারী, জারি সতর্কতা
এছাড়া Fixed Deposit-এর সুদও করযোগ্য আয়ের অন্তর্ভুক্ত। অনেকেই মনে করেন, ব্যাঙ্ক TDS কেটে নেওয়ায় আলাদা করে এই আয়ের উল্লেখের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এমনটা নয়। আর্থিক বছরে অর্জিত সম্পূর্ণ সুদের অঙ্ক ‘Income from Other Sources’ শিরোনামে দেখাতে হবে। পরে কাটা TDS করের হিসাবের সময় হিসাব হয়ে যায়। এই নিয়ম ব্যাঙ্কের FD, Recurring Deposit, কর্পোরেট ডিপোজিট এবং নির্দিষ্ট পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বর্তমানে বহু চাকরিজীবী অতিরিক্ত আয়ের জন্য Freelance বা Gig Work-এর সঙ্গে যুক্ত। কনসালটেন্সি, অনলাইন টিউশন, গ্রাফিক ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ডিজিটাল মার্কেটিং বা সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত কাজ থেকে আয় হলে সেটিও ITR-এ দেখানো বাধ্যতামূলক। সাধারণত এই আয় ‘Profits and Gains of Business or Profession’ শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং যোগ্য ব্যবসায়িক খরচের ছাড়ও দাবি করা যায়।
এছাড়া বাড়ি ভাড়া, বিনিয়োগ বা অন্য কোনও করযোগ্য উৎস থেকে আয় থাকলেও তা রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে। ITR জমা দেওয়ার আগে Form 16, Form 26AS এবং AIS-এর সঙ্গে সমস্ত তথ্য মিলিয়ে নিলে ভুলের সম্ভাবনা কমে এবং রিফান্ড প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে।
