কলকাতা: আইপিএলের দামামা বেজে গিয়েছে। মঙ্গলবারই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে সহ শাহরুখ খানের দলের এক ঝাঁক তারকা। আর সেদিনই শহরের বুকে অভিনব এক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ঘোষণা করা হল। বেবি লিগ।
ভারতীয় বোর্ডের সদস্য সংস্থা ন্যাশানল ক্রিকেট ক্লাব (NCC), বাংলার রঞ্জি ট্রফি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ও ‘কিডস অন জি ফাইভের’ যুগ্ম উদ্যোগে শুরু হচ্ছে এনসিসি বেবি লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬। যে টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য, শৈশব পর্যায় থেকে ক্রিকেট প্রতিভা তুলে আনা। তাদের সামনে নিজ প্রতিভা প্রদর্শনের এক নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া।
‘কিডস অন জি ফাইভ’-এর মুখ্য স্পন্সরশিপে এই টুর্নামেন্টের যৌথ আয়োজন করছে এনসিসি এবং মেনল্যান্ড সম্বরণ অ্যাকাডেমি। ২৪ দলের যে টুর্নামেন্ট ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত। যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা খুদে প্রতিভারা অংশগ্রহণ করবে। এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য একদিকে যেমন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি, তেমনই অফুরান ক্রিকেট-শিক্ষা প্রদান।
১০ ওভারের ফর্ম্যাটে হবে টুর্নামেন্টটি। যেখানে প্রতিটি ম্যাচে প্রতিটা টিম থেকে সর্বাধিক ১১ জন ব্যাট করতে পারবে। ইনিংস সম্পূর্ণ করার জন্য দশ জন বোলারকে ব্যবহার করা যাবে। তবে প্রত্যেক বোলার করতে পারবে সর্বোচ্চ ২ ওভার। এছাড়াও, ইনিংসের মাঝে আইপিএলের ধাঁচে একটি স্ট্র্যাটেজিক টাইম-আউটের ব্যবস্থা থাকছে, যেখানে কোচরা সরাসরি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ দিতে পারবেন।
তরুণ ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে ম্যাচগুলো সাদা সিন্থেটিক বল এবং রঙিন পোশাকে খেলা হবে, যা একদিকে পেশাদার ম্যাচের আবহ তৈরি করবে এবং অন্যদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। খেলার নিয়মাবলীতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল ১১ গজের একটি ‘ইনার সার্কেল’, যার মধ্যে উইকেটকিপার এবং স্লিপ ছাড়া অন্য কোনও ফিল্ডারকে ক্যাচিং পজিশনে রাখা যাবে না। এই নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়েছে ক্লোজ-ইন ফিল্ডারদের আঘাতের ঝুঁকি কমাতে।
টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক, প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া বলেছেন, ‘কমবয়সী ক্রিকেটাররা কোচিংয়ে অনেক সময় খরচ করলেও প্রায়ই তারা ম্যাচ খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না। ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে মানসিক দৃঢ়তা, সচেতনতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র ম্যাচ খেলার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাইছি, যেখানে খুদেরা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট উপভোগ করতে পারবে, ম্যাচের চাপ সামলাতে শিখবে, খেলার মাঝেই কোচদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং সবচেয়ে বড় কথা, খেলাটির প্রতি তাদের ভালোবাসা তৈরি হবে।’
ন্যাশনাল ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি পবন ভালোটিয়া বলেছেন, ‘তৃণমূল স্তর থেকে ক্রিকেটকে শক্তিশালী করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি সুসংগঠিত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাই।’
মেনল্যান্ড সম্বরণ ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কর্ণধার এবং রঞ্জি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অল্প বয়সে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা একজন খেলোয়াড়ের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনসিসি বেবি লিগ শিশুদের জন্য সেই প্রেক্ষিতে এক অসাধারণ সুযোগ, যেখানে খুদে প্রতিভারা খেলার নান্দনিকতা বুঝতে পারবে, আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে শিখবে এবং দলগত পরিবেশে পারফর্ম করতে শিখবে। খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
