লখনউ: লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে যেদিন ফের একবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের টপ অর্ডার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হল, সেই দিনই ফের একবার নাইটদের ত্রাতা হয়ে ফের একবার সামনে উঠে এলেন রিঙ্কু সিংহ (Rinku Singh)। মূলত তাঁক দাঁতে দাঁত চেপে শেষ পর্যন্ত খেলে যাওয়া এক লড়াকু ইনিংসে ভর করেই কেকেআর কোনওমতে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করে। শেষ ওভারে রিঙ্কুর চারটি ছক্কাসহ মোট ২৬ রান যোগ করে কেকেআর। শেষমেশ ২০ ওভারে সাত উইকেটের বিনিময়ে ১৫৫ রান তুলে ইনিংস শেষ করল নাইটরা। রিঙ্কু নিজের আইপিএল কেরিয়ার সেরা ৮৩ রানে অপরাজিত রইলেন। লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে পাঁচ পাঁচটি উইকেট নিলেন মহসিন খান (Mohsin Khan)।
এদিন টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ঋষভ পন্থ। সকলের নজর ছিল কেকেআরের একাদশের দিকে। মাথিশা পাথিরানা সুযোগ পাবেন কি না, সেই প্রশ্নই সকলের মুখে ঘোরাফেরা করছিল। তবে নাইট অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে কেকেআর সমর্থকদের হতাশ করেই জানান পাথিরানা এই ম্যাচেও খেলছেন না। একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামে কেকেআর।
ব্যাটে নেমে কেকেআরের ওপেনাররা ফের একবার ব্যর্থ হন। খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন টিম সেফার্ত, একগুচ্ছ ডট বল খেলে রাহানে ফেরেন ১০ রানে। দুইজনকেই আউট করেন মহসিন খান। এরপরে খানিকটা বিতর্কিতভাবে ফেরেন অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। শামির থ্রো আটকানোর চেষ্টা করায় অবস্ট্রাকশনের জন্য আউট দেওয়া হয় তাঁকে। পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেটে ৩১ রান তোলে কেকেআর। ষষ্ঠ ওভারে রান আউট হতে হতে কোনওরকমে বাঁচেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে ঠিক পরের ওভারেই রোভম্যান পাওয়েল এক রানে মহসিনের শিকার হন। এই পরিস্থিতিতে ধুঁকছিল কেকেআর।
এমন পরিস্থিতিতে জর্জ লিন্ডের বিরুদ্ধে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে কেকেআরের রানের গতি খানিকটা বাড়িয়ে দলকে অর্ধশতরানের গণ্ডি পার করান গ্রিন। অজ়ি ক্রিকেটারকে বেশ ভাল ছন্দেই দেখাচ্ছিল। রিঙ্কুর সঙ্গে মন্থর গতিতে হলেও গড়ে উঠছিল পার্টনারশিপ। তবে ফের একবার মহসিন বলে এসে জোড়া ধাক্কা দেন। ৩৪ রানে গ্রিন ও ঠিক পরের বলেই শূন্য রানে অনুকূলকে আউট করেন মহসিন। নিজের পাঁচ উইকেট পূরণ করেন তিনি। এরপরে রমনদীপ ব্যাট করতে নেমে তিনিও রান পাননি। ছয় রানে জর্জ লিন্ডার শিকার হন রমনদীপ। ৯৩ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ফেলে কেকেআর।
এইসবের মধ্যেও রিঙ্কু একদিকে ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে ছিলেন। তিনি ১৯তম ওভারে ৪২ বলে এক লড়াকু হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। এরপরে আসে বিশতম ওভার। দ্বিগেশ রাঠির বিরুদ্ধে অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ছয়ের ঝড় তোলেন রিঙ্কু। চার ছক্কাসহ ২৬ রানের শেষ ওভারেই কেকেআর বোর্ডে ১৫৫ রান তুলতে সক্ষম হয়। এবার এই রান জয়ের জন্য যথেষ্ট হয় কি না, সেটাই দেখার।
