নয়াদিল্লি: ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই আবহেই তিন দেশে যাওয়া নিয়ে সতর্ক করল ভারত সরকার। আফ্রিকার তিন দেশ—কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান এবং উগান্ডা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। খুব প্রয়োজন না থাকলে, ওই সব দেশে আপাতত না যাওয়াই শ্রেয় বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। (Ebola Outbreak)
শুধু ওই তিন দেশে যেতেই নিষেধ করা হয়নি, সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে কেন্দ্র। স্থানীয় প্রশাসনের বিধিনিষেধ মেনে চলতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, খুব প্রয়োজন না থাকলে, ভারতীয়দের এই তিন দেশে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে’। (Ebola Virus)
আফ্রিকায় যে হারে ইবোলা ভাইরাস ছড়াচ্ছে, তা নিয়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বর্তমান পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এবং জনস্বাস্থ্য়ের ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা বলে উল্লেখ করা হয়। সেই সময়ই আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছি। জোর দেওয়া হয়েছিল নমুনা পরীক্ষা এবং রোগী শনাক্তকরণের উপর।
চলতি সপ্তাহে যে পরিসংখ্য়ান প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেই অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। ইবোলার প্রকোপেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রায় ৭৫০ জন সংক্রমিত বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি সেখানে কর্মরত এক Red Cross স্বেচ্ছাসেবকও সংক্রমিত হয়েছেন।
এবারের এই ইবোলা সংক্রমণকে ‘অতি সংক্রামক’ বলে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, রোগীর মৃত্যুর পরও তাঁর শরীরের তরল থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এবারে বুন্ডিবুজিও ভাইরাসই প্রকোপের জন্য দায়ী, যার না আছে কোনও টিকা, না আছে ওষুধ। সংক্রমিতদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা। কঙ্গোয় যে হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে সেখানকার স্বাস্থ্যসঙ্কটকে ‘উচ্চ’ থেকে ‘অতি উচ্চ মাত্রা’য় বদলে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থা।
ইবোলা ভাইরাস একটি প্রাণীবাহিত, প্রাণঘাতী সংক্রমণ, যা মানুষের শরীরে থাবা বসায়। অর্থোইবোলাভাইরাস থেকে সৃষ্টি, যার তিনটি ভাগ রয়েছে, ইবোলা ভাইরাস, সুদান ভাইরাস এবং বুন্ডিবুজিও ভাইরাস। রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হয়। গড় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ। কঙ্গো এবং উগান্ডায় বুন্ডিবুজিও ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে, যা ইবোলার বিরল একটি প্রজাতি। না আছে তার চিকিৎসা, না টিকা। কঙ্গো এবং উগান্ডায় এর আগে ২০ বারেরও বেশই ইবোলার প্রকোপ দেখা গিয়েছে। তবে এই নিয়ে তৃতীয়বার বুন্ডিবুজিও ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিল।
ফল খাওয়া বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়ায় মূলত। শিম্পাঞ্জি, গোরিলা, বাঁদর, হনুমান, বুনো হরিণ, শজারু থেকেও ছড়াতে পারে। সরাসরি সংস্পর্শে এলে, বা সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শে এলে আক্রান্ত হতে হয়। সংক্রমিতের রক্ত, নিঃসরণ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা শরীরের অন্য তরল, দূষিত পরিবেশ, বিছানা, পোশাক-পরিচ্ছদ, বমি, রক্ত, বীর্য থেকেও ছড়াতে পারে।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
