নয়াদিল্লি : কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়া সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি বাংলাদেশ ফেরার কথাও জানিয়েছেন । ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করার পর তাঁর বার্তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। এই আবহে এবার বাংলাদেশে বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগের (যার নেতৃত্বে রয়েছেন হাসিনা) সঙ্গে তাঁর দলের মার্জারের বা একসঙ্গে মিশে যাওয়ার আহ্বান জানালেন BNP বা বাংলাদেশের ন্যাশনালিস্ট পার্টির এক জনপ্রতিনিধি।
ঢাকার সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন যে, হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লিগ ক্ষমতাসীন দলের “মিত্র”। যদি তাঁর এই মতের ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন বিএনপির অন্যরা এবং বাংলাদেশ সরকার।
‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার বিএনপির টিকিটে জয়ী হওয়া চৌধুরী দেরাই পৌরসভার থানা পয়েন্টে দলের এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় এই মন্তব্য করেন। তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আওয়ামী লিগ আমাদের শত্রু নয়, তারা আমাদের মিত্র। আমরা তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। শীঘ্রই আওয়ামী লিগ বিএনপির সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে।”
২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দিন দু’য়েক আগে দিল্লিতে আয়োজিত প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এটা ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত কোনও বিক্ষোভ ছিল না। এর কোনও দৃশ্যমান বা দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ছিল না, বরং পর্দার আড়াল থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; এটা ছিল এমন এক সুসংগঠিত ও পরিচালিত প্রক্রিয়া, যা ব্যালট বাক্সের বাইরে ক্ষমতার পথে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।” ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’-র ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাসিনা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে নিহত তাঁর বাবা, পরিবার ও দেশবাসীর কথা স্মরণ করার সময় তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। এর পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ফিরতে চান তিনি।
বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে হাসিনা আরও বলেন, “২০২৪ এর জুলাই ও অগাস্ট মাসের সত্যিটা দিয়ে আমি শুরু করছি। এটা শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। শুরু থেকেই, আমার সরকার আলোচনা, আইনি প্রক্রিয়া এবং ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতির সমাধান করতে চেয়েছিল। কিন্তু, সংস্কারের ভাষার নেপথ্যে, সংগঠিত গ্রুপ এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছিল যাতে ছাত্রদের দাবিদাওয়া হিংসাত্মক রাজনৈতিক রূপ দেওয়া যায়।”
