নয়াদিল্লি : ৭৫ বছরের ঐতিহ্য ভাঙতে চলেছে এবারের কেন্দ্রীয় বাজেট। এবার প্রথা ভেঙে ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের বিস্তারিত দৃষ্টিভঙ্গি পার্ট B-তে তুলে ধরবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বাজেট বক্তৃতায় এই পার্টে স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় লক্ষ্যের কথা তুলে ধরা হবে। এতদিন পার্ট A-তে বাজেট বক্তৃতার বিস্তারিত তথ্য থাকত। আর পার্ট B-তে উল্লেখ থাকত, কয়েকটি ঘোষণার কথা। বাজেট বক্তৃতার পার্ট-B-তে বিশ্ব মঞ্চে ভারতের স্থানীয় শক্তি প্রদর্শনের জন্য রোডম্যাপও উপস্থাপন করা হবে। এই অংশ ভারতের বর্তমান শক্তি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও প্রদর্শন করবে। যা অর্থনীতিবিদ এবং ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞদের নজর কাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এনিয়ে টানা নবম বার বাজেট পেশ করতে চলেছেন নির্মলা সীতারমণ। ২০১৯ সালে তাঁর প্রথম বাজেটে তিনি চামড়ার ব্রিফকেস – যা কয়েক দশক ধরে বাজেটের নথি বহনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল – তার পরিবর্তে লাল কাপড়ে মোড়ানো একটি ঐতিহ্যবাহী ‘বহি-খাতা’ ব্যবহার করেছিলেন। গত চার বছরের মতো এবারের বাজেটও কাগজবিহীন হবে।
বাজেটে ক্রস-সেক্টর সংস্কারের উপর জোর দেওয়া হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যার লক্ষ্য হল, নিয়মকানুন সহজ করা, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং দেশীয় উৎপাদনে জোর দেওয়া। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক চাপের মধ্যে এই পদ্ধতিটি অতিরিক্ত তাৎপর্য অর্জন হতে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন মহলের দাবি, সরকার আসন্ন বাজেটকে এমন কাঠামোগত পরিবর্তন আনার সুযোগ হিসেবে দেখছে যা অর্থনীতিকে বহিরাগত ধাক্কা থেকে রক্ষা করে বৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পার্ট-B-তে রফতানি ও উৎপাদন কাঠামোর পরিবর্তনের রূপরেখাও থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানিুমখী ইউনিট এবং MOOWR ব্যবস্থার মতো বিদ্যমান প্রকল্পগুলিকে একটি সমন্বিত রফতানি ও উৎপাদন অঞ্চলে একত্রিত করার প্রস্তাব। সরকারের বৃহত্তর শিল্প ও বাণিজ্য কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত কাঠামোটি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, রফতানি বৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনকে উৎসাহিত করার উপর দৃষ্টিপাত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পার্ট বি-তে বাজেটের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে কেন্দ্র বড়সড় সংস্কারে উদ্যোগী হবে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। যার দিকে নজর থাকবে গোটা দেশের। Union Budget 2026
