নয়াদিল্লি: নোভেল করোনাভাইরাস কী বস্তু, কোভিড-১৯ সংক্রমণ কী, বছর ছয়েক আগেও জানতেন না সাধারণ মানুষ। কিন্তু দু’বছর ব্যাপী অতিমারি শিখিয়ে গিয়েছে অনেক কিছুই। লকডাউন, কোয়ারান্টিন-স্তব্ধ করে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। সেই ধাক্কা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। কারণ কিছু দিন অন্তর অন্তরই কোভিডের বাড়-বাড়ন্তের কথা শোনা যায়। সম্প্রতি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশেও নতুন করে বেশ কয়েক জন কোভিডে সংক্রমিত হয়েছেন, মারাও গিয়েছেন দু’জনই। সেই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই স্বস্তির খবর শোনালেন বিশেষজ্ঞরা। জানালেন, আগের মতো আর ভয়ঙ্কর নেই কোভিড। বরং ফ্লুর মতো সর্বজনিক সংক্রমণে পর্যবসিত হয়েছে। (COVID Endemic)
আমেরিকার The University of North Carolina at Chapel Hill-এও কোভিডের এই রূপান্তরে সিলমোহর দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, কোভিড আর Pandemic নেই, তা Endemic-এ রূপান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ কোভিড আর অতিমারি স্তরের কোনও সংক্রমণ নয়, বরং তা সর্বজনিক সংক্রমণে পর্যবসিত হয়েছে। তাই বলে যে ভয়ের কারণ নেই, এমনটা নয়। মানুষ বিশেষে কোভিড গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে, যাঁদের অন্য গুরুতর কোন অসুখ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ এখনও। (New COVID Cases)
আরও পড়ুন: ক্যান্সার রোগীদের উপর পেঁপে পাতার টোটকা? টাটা মেমোরিয়ালের গবেষণা ঘিরে বিতর্ক, তারা জানাল…
এপিডেমিক, প্যান্ডেমিক এবং এন্ডেমিক
মহামারি বলতে বোঝায়,যখন কোনও রোগ অপ্রত্য়াশিত ভাবে দ্রুত গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতিমারি বলতে বোঝায়, যখন তিন বা তার অধিক উপমহাদেশে কোনও সংক্রমণ ছড়ায়। অন্য দিকে সর্বজনিক রোগ বলতে বোঝায়, যখন কোনও সংক্রমণ কোনও জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিদ্যমান থাকে। SARS-CoV-2 পুরোপুরি বিলুপ্ত না হয়ে একটা সময় পর সর্বজনিক সংক্রমণে পরিণত হবে বলে বরাবরই বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ ভাইরাসটি একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। তবে তা সাধারণ ফ্লু-তেও পর্যবসিত হয়নি। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
নতুন করে কোভিড সংক্রমণ
নতুন করে অন্ধ্রপ্রদেশে কোভিড মাথাচাড়া দিয়েছে। বেশ কয়েক জন সংক্রমিত হয়ে পড়েছেন। মারাও গিয়েছেন দু’জন। তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই বলে NDTV-কে জানিয়েছেন হায়দরাবাদের ‘যশোদা হসপিটালসে’র দিলীপ গুড়ে। যে দু’জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের অন্য অসুস্থতা ছিল। ডায়বিটিস, লিভার এবং কিডনির সমস্যা ছিল তাঁদের। একাধিক কোমর্বিডিটি থাকলে সাধারণ ফ্লু-ও পরিস্থিতিকে গুরুতর করে তুলতে পারে। ভর্তি করতে হতে পারে ICU-তে। তাই বয়স্ক, ডায়বিটিস রোগী, গুরুতর রোগে আক্রান্ত, হৃদরোগের সমস্যায় ভোগা, ফুসফুসের সমস্যা থাকা, লিভারের সমস্যা থাকা, রোগ প্রতিরোধ শক্তি হারিয়ে ফেলা এবং গর্ভবতী মহিলাদের বিশেষ করে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কখন, কী করণীয়
বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে উপসর্গ নিয়েও ধন্দ তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কোভিড এবং ফ্লু-র উপসর্গ মিলে যাচ্ছে, যেমন-জ্বর, শুকনো কাশি, গলাব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া,নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, অবসন্নতা, পেশির যন্ত্রণা, মাথার যন্ত্রণা। কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, বমি, তলপেটে অস্বস্তিও হতে পারে। তবে শ্বাসকষ্ট থাকলে, বুকে ব্যথা হলে, বুক ভারী মনে হলে, অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে, বিভ্রান্তি তৈরি হলে, অত্যন্ত দুর্বল মনে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সংক্রমণ এড়াতে নিয়ম করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ভাল মতো মুখ ঢাকা থাকে, এমন মাস্ক পরা জরুরি। বিশেষ করে হাসপাতালে গেলে বা ভিড় জায়গায়। জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হলে বাড়িতে থাকাই শ্রেয়। হাওয়া-বাতাস খেলতে দিন ঘরে। বয়স ঝুঁকিপূর্ণ হলে টিকার ব্যাপারে সতর্কতা জরুরি। আতঙ্কিত না হয়ে বুঝেশুনে পা ফেলতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কোভিড হয়ত পুরোপুরি বিলুপ্ত হবেই না। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে চলতে হবে।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
