সন্দীপ সরকার, কলকাতা: তিন বছর আগে যখন বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগ শুরু করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মুখ। তাঁকে আইকন প্লেয়ারের তকমা দেওয়া হয়েছিল। প্রথম বছর খেলেছিলেন ক্রিকেটার হিসাবে। গত মরশুমে তাঁকে নতুন ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের কোচিং টিমে ছিলেন।
তিনি, ঋদ্ধিমান সাহা। একটা সময় বিরাট কোহলি যাঁকে বিশ্বের সেরা উইকেটকিপার হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। ভারতের হয়ে ৪০টি টেস্ট খেলা ক্রিকেটারকে এবার দেখা যাবে না সিএবি আয়োজিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-২০ টুর্নামেন্টে!
এবার টুর্নামেন্টের নাম বদলে গিয়েছে। বেঙ্গল প্রো টি-২০ এখন বেঙ্গল টি-২০ লিগ। আর সেই বহু বিজ্ঞাপিত টুর্নামেন্ট শুরুর পাঁচদিন আগে বিরাট ধাক্কা খেল সিএবি। শ্রাচী রাঢ় টাইগার্স দলের মেন্টর পদ থেকে সরলেন ঋদ্ধিমান সাহা।
কিন্তু কেন? শোনা গেল, নেপথ্যে রয়েছে দলের মালিকানা নিয়ে সমস্যা। এবার রাঢ় টাইগার্স দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক হিসাবে শ্রাচী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ট্রাইবস গোষ্ঠী। ট্রাইবস গোষ্ঠীই ঋদ্ধিমান সাহাকে মেন্টর হিসাবে দলের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। সেই সঙ্গে তাদের তরফে বোলিং কোচ হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল দীপ্তেশ পাকড়াশিকে।
তবে শ্রাচী গ্রুপের সঙ্গে ট্রাইবস গোষ্ঠীর চুক্তি ভেঙে গিয়েছে। শ্রাচী গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার রাহুল টোডি এবিপি লাইভ বাংলাকে বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে ট্রাইবস গ্রুপের চুক্তি কার্যকর হয়নি।’
ট্রাইবস গোষ্ঠী বাদ যাওয়ার পরই ঋদ্ধিমান সাহাকে (Wriddhiman Saha) মেন্টর পদ থেকে ও দীপ্তেশ পাকড়াশিকে বোলিং কোচ পদ থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। এবিপি লাইভ বাংলাকে ঋদ্ধিমান বললেন, ‘বেঙ্গল টি-২০ লিগের ক্রিকেটার নিলামের ২ দিন আগে আমাকে দলের সঙ্গে মেন্টর হিসাবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি রাজি হই। রবিবার থেকে প্র্যাক্টিস শুরু হওয়ার কথা ছিল দলের। তার ২ দিন আগে আমাকে জানানো হল, ট্রাইবস গ্রুপ সরে যাচ্ছে। তাই আমাকে আর মেন্টর থাকতে হবে না।’
গোটা ঘটনায় হতচকিত ময়দান। সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস অবশ্য গোটা বিষয়ে সিএবি-র ভূমিকা নেই বলে জানালেন। বললেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ব্যাপার। আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা সিএবি-র কোনও ব্যাপার নয়।’ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সরে গিয়েছে হারবার ডায়মন্ডস। এবার ট্রাইবস গ্রুপ সরে যাওয়ায় টুর্নামেন্টে প্রভাব পড়বে? সঞ্জয় বলছেন, ‘শ্রাচী দল নামাবে। ওদের পার্টনার সরে গিয়েছে। টুর্নামেন্টে কোনও সমস্যা হবে না।’
যদিও ময়দানের প্রশ্ন, ঋদ্ধিমান সাহার মতো বড় নাম সরে যাওয়ায় টুর্নামেন্ট কি একটু হলেও জৌলুস হারাবে না? যে টুর্নামেন্ট শুরুই হয়েছিল ঋদ্ধিমান, মনোজ তিওয়ারির মতো ক্রিকেটারদের মার্কি প্লেয়ার হিসাবে রেখে, সেই টুর্নামেন্ট থেকে একে একে তারকাদেরই সরে যেতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, তারকাদের যাতে টুর্নামেন্টে রাখা যায়, সে ব্যাপারে কি সিএবি কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে? ঋদ্ধিমান সাহার সঙ্গে নিশ্চয়ই আর্থিক চুক্তি হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে তাঁকে সরে যেতে হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির দায়ভারই বা কে নেবে?
