April 15, 2026
cfb1edd85c3b8a708bf96f3dcb4aabf81772263277800394_original.jpeg
Spread the love


Baba Ramdeb : নতুন ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে দুটি প্রধান দিক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এগুলি হল ওষুধের কার্যকারিতা ও সুরক্ষা। কার্যকারিতা হল ওষুধের প্রভাব, মূলত কীভাবে এই পণ্য কাজ করে তা এই ক্ষেত্রে ক্ষতিয়ে দেখা হয়। অর্থাৎ, এটি কোন রোগের ওপর প্রভাব বিস্তার করে করে তা এখানে বোঝানো হয়। পাশাপাশি ওষুধের সুরক্ষার মধ্যে রয়েছে, পণ্য়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত বিষয়। ওষুধে যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, তাহলে কত পরিমাণে এবং কত সময় পরে এটি প্রদর্শিত হয় তা পর্যবেক্ষণ করাও একটি বড় কাজ। পতঞ্জলির সব ওষুধ বাজারে রোগীদের জন্য এই দুটি দিক বিবেচনা করার পরেই মার্কেটে আনা হয়। যে কারণে এগুলিকে প্রমাণ ভিত্তিক ওষুধ বলে বিবেচনা করা হয়।

শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও সবচেয়ে পরিশ্রমী অঙ্গ লিভার 
গবেষণা বলছে, লিভার আমাদের শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ ও সবচেয়ে পরিশ্রমী অঙ্গ। এটি ওষুধের বিপাকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, অর্থাৎ আমরা যেকোনও ওষুধ গ্রহণ করি তা শরীরের জন্য উপকারী হিসাবে রূপান্তরিত হয়। অ্যালোপ্যাথিক ও সিন্থেটিক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে DILI (ড্রাগ ইনডিউসড লিভার ইনজুরি) হতে পারে, যা লিভার ও সমগ্র শরীরকে প্রভাবিত করে।

ওষুধের বিপাক ও লিভারের উপর প্রভাব ফেলে
এর একটি প্রধান কাজ হল ওষুধের বিপাক, অর্থাৎ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা যে ওষুধগুলি গ্রহণ করি তা শরীরের জন্য সহজ করে তোলে। এই অ্যালোপ্যাথিক ও সিন্থেটিক ওষুধগুলি গ্রহণের ফলে লিভারে DILI (ড্রাগ ইনডিউসড লিভার ইনজুরি) হয়, যা লিভারের পাশাপাশি পুরো শরীরকেও প্রভাবিত করে। এই গবেষণার মাধ্যমে, আয়ুর্বেদিক ওষুধের মাধ্যমে লিভারের উপর এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি নিরাময় করা যেতে পারে কিনা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আমেরিকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ১৩২১ জন রোগীর উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা দীর্ঘ সময় ধরে এবং প্রচুর পরিমাণে প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে তীব্র লিভার ব্যর্থতার ঘটনা বেশি ছিল। এ ছাড়া, গর্ভাবস্থায় ও হৃদরোগে প্রদত্ত ওষুধ থেকেও লিভারের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বেশি দেখা গেছে।

সর্বকল্প কাথ ও গবেষণা
আয়ুর্বেদে লিখিত ওষুধের বিভিন্ন রেফারেন্স থেকে তৈরি সর্বকল্প কাথ, যা পুনর্নব, ভূমি আমলা ও মাকয় ভেষজ থেকে তৈরি করা হয়। এতে উপস্থিত বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর উদ্দেশ্য, অসুস্থতার সময় রোগী ও তাদের পরিবারকে রক্ষা করা ও এই আয়ুর্বেদিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে লিভারের কার্যকারিতা বাড়ানো যায় কিনা এবং DILI (ড্রাগ ইনডিউসড লিভার ইনজুরি) প্রতিরোধ করা যায় কিনা তা দেখা।

গবেষণায় প্রথমে মানুষের লিভার কোষগুলি পরীক্ষাগারে প্রস্তুত করা হয়েছিল ও তাদের কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (CCl4) দেওয়া হয়েছিল, যা একটি শিল্প রাসায়নিক এবং DILI এর একটি প্রধান কারণ হিসাবে বিবেচিত হয়। এই রাসায়নিকের প্রভাবের কারণে কোষগুলির জীবনকাল হ্রাস পেতে শুরু করে এবং তারা মারা যেতে শুরু করে। এর পরে, সর্বকল্প কাথ দেওয়া হয়েছিল, যা কোষগুলিকে পুরায় উজ্জীবিত করে। এই কোষগুলির মৃত্যুর দুটি প্রধান কারণ ছিল,

এই কোষগুলিতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের শুরু
আমাদের কোষের পাওয়ার হাউস, মাইটোকন্ড্রিয়ার ঝিল্লি সম্ভাবনা হ্রাস পায়
ইন-ভিট্রো এবং ইন-ভিভো পর্যবেক্ষেণ

কেমিক্যাল ইন্ডাস্টির কারণে বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিক্রিয়াশীল অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং MMP স্তরগুলিও ডোজ-নির্ভর পদ্ধতিতে হ্রাস পায় ও এই উভয় মাত্রা লিভোগ্রিটের মাধ্যমে তাদের সঠিক অবস্থায় ফিরে আসে।

এরপর, ইন-ভিভো গবেষণার জন্য উইস্টার ইঁদুর বাছা হয়েছিল। প্রায় ৯ সপ্তাহ ধরে পরিচালিত এই গবেষণায় বিভিন্ন মাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছিল। যার মধ্যে সিরাম ALT এবং সিরাম AST অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, Sarvakalp Kwath বা Livogrit দেওয়ার সময়, এই পরামিতিগুলির মাত্রা ডোজ-নির্ভর এবং সময়-নির্ভর পদ্ধতিতে হ্রাস পেয়েছে। আরেকটি সিরাম বিলিরুবিন, যা জন্ডিসের সময়ও পরিমাপ করা হয়। যার ফলে CCl4 ব্যবহারের সঙ্গেও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু Livogrit ব্যবহারের সঙ্গে, এর মাত্রাও ডোজ-নির্ভর পদ্ধতিতে হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া, অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে ইঁদুরের কোলেস্টেরল ও ইউরিক অ্যাসিডের বর্ধিত মাত্রাও Livogrit এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।

এছাড়াও, এই গবেষণায় Silymarin এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল, যা একটি কার্যকর অ্যালোপ্যাথিক ঔষধ। ফলাফল দেখায় যে Livogrit তার প্রতিরূপ, Silymarin এর চেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। CCl4 এর কারণে এই লিভার কোষগুলিতে ফাইব্রোসিস, লিম্ফোসাইটিক ইনফ্লিটেশন এবং হেপাটোসেলুলার ভ্যাকুওলেশনের মতো সমস্যা পাওয়া গেছে, যার অর্থ এই কোষগুলির মধ্যে খুব বড় খালি জায়গা তৈরি হতে শুরু করেছে। ডোজ-নির্ভর এবং সময়-নির্ভর পদ্ধতিতে লিভোগ্রিট দেওয়ার সময়ও সমস্যাগুলি হ্রাস পেয়েছে।

নিরাপত্তা ও টক্সিকোলজি
এরপরে লিভোগ্রিটের সুরক্ষা ও টক্সিকোলজি পরীক্ষা করা হয়েছিল। এই পরীক্ষাটি রেগুলেটর নির্দেশিকা ও OECD নির্দেশিকা অনুসারে করা হয়েছিল। যেখানে 28 দিনের জন্য 1000 মিলিগ্রাম/কেজি ডোজ দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে এতে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এর পরে, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির হিস্টোপ্যাথোলজি করা হয়েছিল, যা নিশ্চিত করেছে যে লিভোগ্রিট গ্রহণের ফলে অঙ্গগুলির উপর কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়নি। 

গবেষণায়, লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকা সহ ১১৮টি ভিন্ন মাত্রা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। ফলাফলগুলিতে দেখা গেছে, লিভোগ্রিট প্রতিটি দিক থেকে একটি নিরাপদ ও কার্যকর ঔষধ।

ভারতের প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে, বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ ও উদ্ভিদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাষা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারণে, এই জ্ঞান আমাদের দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। পতঞ্জলি এই অমূল্য ঐতিহ্যকে জনসাধারণের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংকল্পবদ্ধ। এখন, প্রমাণ-ভিত্তিক আয়ুর্বেদিক ওষুধের মাধ্যমে, প্রতিটি নাগরিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করতে সহায়তা পাচ্ছে, যা ভারতীয় আয়ুর্বেদিক ওষুধের বিশ্বমানের অবদান নিশ্চিত করছে।

(মনে রাখবেন: এটি একটি স্পনসর্ড প্রতিবেদন। ABP নেটওয়ার্ক প্রাইভেট লিমিটেড এবং/অথবা ABP লাইভ এর বিষয়বস্তু এবং/অথবা এখানে প্রকাশিত মতামতকে সমর্থন/সাবস্ক্রাইব করে না। সমস্ত তথ্য যেমন আছে তেমন ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়েছে। তথ্যটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শ বা কেনার প্রস্তাব গঠন করে না। এই ধরনের কোনও কিছু কেনার আগে একজন বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা/স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। পাঠকদের বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks