
করোনার আতঙ্ক অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে পৃথিবী। অতিমারী সেই সব ভয়াবহ দিন আজও আতঙ্কের। প্রায় তিন বছর হয়ে গেল। এখন ফের ভারতের দুই রাজ্যে নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণের খবর সামনে এসেছে। আর এদিকে কলকাতাতেও বাড়ছে সর্দি-কাশির প্রকোপ। অনেকে আবার ভাবছেন কোভিড নয় তো ? আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন ডা.শিবেন্দু ঘোষ ( Internal Medicine, Techno India DAMA Hospital )

হালে মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশে কয়েকজনের সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি কোনও ভাবেই ভয়ের নয়। অতীতের মতো বড় কিছু আর ঘটবে না। কোভিড একেবারে চলে যাবে না। থেকেই যাবে । তবে ধীরে ধীরে তার ধার কমবে। মানুষও কোভিডের মোকাবিলা করবে সহজে। আর পাঁচটা স্বাভাবিক সর্দি-জ্বরের মতো করেই।

মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৪৮ জনের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। স্বস্তির বিষয়, এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে জানুয়ারিতে ৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ১টি সংক্রমণ ধরা পড়লেও জুনে সেই সংখ্যা বেড়ে ১১-তে পৌঁছায়। জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহেই আরও ২১ টি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পুণেতেই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

তবে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীরা অন্যান্য অসুখেও আক্রান্ত। অর্থাৎ কোমর্বিডিটি রয়েছে। জানা যাচ্ছে, কোভিড পরীক্ষা নয়, বরং রুটিন স্ক্রিনিংয়ের ফলেই অধিকাংশ সংক্রমণ ধরা পড়েছে।অন্ধ্রপ্রদেশে ২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে ১২টি কোভিড সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছে। চার জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

তবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, মৃত চার জনেরই আগে থেকে গুরুতর শারীরিক সমস্যা ছিল এবং তাঁরা কোভিডে আক্রান্তও ছিলেন। অর্থাৎ, তাঁরা কোভিডে আক্রান্ত অবস্থায় মারা গেলেও, মৃত্যুর একমাত্র কারণ হিসেবে কোভিডকে দায়ী করা হচ্ছে না।

এই রাজ্যের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে কড়াপা জেলায়। পরে গুন্টুর, বিশাখাপত্তনম এবং কাকিনাডাতেও নতুন রোগীর সন্ধান মেলে। সংক্রমণের জন্য দায়ী ভাইরাসের ধরন জানতে আক্রান্তদের নমুনা পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (NIV)-তে জিনোম বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

দুই রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁদের মতে, এক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীর উপসর্গ খুবই মৃদু। সংক্রমণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হয়েছে, বড় কোনও ক্লাস্টার তৈরি হয়নি। বর্ষাকালে শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ হয়েই থাকে। তাই আগের তুলনায় বেশি কোভিড রোগী ধরা পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ সম্পূর্ণভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়নি। বরং এটি এখন অনেকটাই মৌসুমি সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। তাই বয়স্ক ব্যক্তি, অনেকদিন কোনও অসুখ-বিসুখে ভুগছেন, এমন মানুষদের শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা করানো উচিত।
Published at : 01 Aug 2026 03:52 PM (IST)