সন্দীপ সরকার, কলকাতা: নিজের রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থায় তিনি ব্রাত্য। তবে বড় দায়িত্ব দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বাংলার প্রাক্তন অফস্পিনার সৌরাশিস লাহিড়ীকে (Saurasish Lahiri) বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে আসন্ন এমার্জিং টুর্নামেন্টে টিম ওয়ানের সহকারী কোচ করল বিসিসিআই। হেড কোচ ওয়াসিম জাফরের অধীনে কাজ করবেন তিনি।
শনিবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান ভি ভি এস লক্ষ্মণ সৌরাশিসকে ই-মেল করে দিয়েছেন সুখবর। জানিয়েছেন, ৬ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা পুরুষ বিভাগের এমার্জিং টুর্নামেন্টে যে চারটি দল খেলবে, তার টিম ওয়ানের সহকারী কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৌরাশিসকে। ৫ জুলাই বেঙ্গালুরু পৌঁছে যেতে বলা হয়েছে বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটারকে।
সৌরাশিসকে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সিএবি (CAB)। তারপরই হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বাংলার প্রাক্তন অফস্পিনার। এবিপি লাইভ বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সৌরাশিস জানিয়েছিলেন, দুর্নীতির সঙ্গে আপোস না করায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর কোপ পড়ল। সিএবি-র অলিন্দে ভোট রাজনীতির জন্য বঙ্গ ক্রিকেটের সর্বনাশ হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ করেন বাইশ গজে বাংলার বহু যুদ্ধের সৈনিক। তাঁর মন্তব্য নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় ময়দানে। তাঁকে সিএবি থেকে নোটিশ পাঠিয়ে বলা হয়, একটি কমিটির সামনে হাজিরা দিতে হবে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ, সেটা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ধোঁয়াশা রয়েছে কমিটির কর্মপদ্ধতি নিয়েও। অভিযোগ, সময়মতো চিঠি পাঠানো হচ্ছে না সৌরাশিসকে। আইনজীবী মারফত নিজের বক্তব্য জমা করেছেন সৌরাশিস। সেই ঘটনার শুনানি এখনও বাকি।
এরই মাঝে বোর্ড থেকে বড় খবর পেলেন সৌরাশিস। এবিপি লাইভ বাংলাকে তিনি বললেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে অনেক ঝড়ঝাপ্টা সামলেছি। তারপর এই খবর খুবই স্বস্তির। বুঝতে পারছি, তাহলে যোগ্যতার মাপকাঠিতে আমি বাংলার কোচিং প্য়ানেল থেকে বাদ পড়িনি। তাহলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এত বড় দায়িত্ব দিত না। মনে হচ্ছে, আমি যেন ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু রাজ্য দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
২০১৫ সালে বাংলার জার্সিতে শেষবার দেখা গিয়েছিল সৌরাশিসকে। তারপর অবসর নেন। পরের মরশুমে, ২০১৬ সালে তাঁকে ভিশন ২০২০ প্রকল্পে স্পিন বোলিং কোচ মুথাইয়া মুরলীধরনের সহকারী কোচ করে সিএবি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তখন সিএবি প্রেসিডেন্ট। অভিষেক ডালমিয়া সচিব। প্রায় এক বছর কাজ করার পর তাঁকে পরের মরশুমে বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যে দল একসময় অবনমনের লজ্জা এড়াতে পারেনি, দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই দলকে জাতীয় স্তরে ট্রফি দেন সৌরাশিস। তিনি বলছিলেন, ‘অনূর্ধ্ব ২৩ দল থেকে দারুণ খেলেই এক ঝাঁক ক্রিকেটার সিনিয়র দলে জায়গা করে নেয়। আকাশ দীপ ভারতীয় দলে ডাক পায়। সাপ্লাই লাইন তৈরি করায় জোর দিয়েছিলাম। তার ফলও দেখা গিয়েছিল।’
পরে বাংলার সিনিয়র দলের কোচ করা হয় সৌরাশিসকে। তাঁর প্রশিক্ষণে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলা রানার আপ হওয়ার পর অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ করা হয় সৌরাশিসকে। তিনি বলছিলেন, ‘সিএবি যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে, পালন করেছি। অবসর নেওয়ার পর সরাসরি দলের কোচিংয়ে আসিনি। ভিশন প্রকল্পে দায়িত্ব সামলেছি। সিএবি-র কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে, সেই সময় আমার ওপর আস্থা দেখিয়েছিল। তবে এবার বাদ পড়াটা আমার কাছে বিরাট ধাক্কা ছিল। আমার কোচিং কেরিয়ার নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। আসলে ৩ ম্যাচে কোনও ক্রিকেটার রান করলে সে সব সময় চতুর্থ ম্যাচে কীভাবে দলকে জেতাবে, কীভাবে ব্যাটিং করবে, সেই পরিকল্পনা করে। আর তিন ম্যাচে কেউ ব্যর্থ হলে তার মনে চতুর্থ ম্যাচে দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো হয়েছিল। তিন ম্যাচে সফল হয়েও যেন পরেরটায় বাদ পড়তে হয়েছিল।’
সিএবি-র উপেক্ষা এখনও যন্ত্রণাবিদ্ধ করে সৌরাশিসকে। বলছিলেন, ‘এই সময়টা অনেক কিছু শেখাল। জীবনবোধ শিখলাম। পরিবার পাশে ছিল। অ্যাডামাস গোষ্ঠী, বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে যাদের কোচিং করিয়ে চ্যাম্পিয়ন হই, তারা পাশে ছিল।’ সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়াকেও ধন্যবাদ দিচ্ছেন সৌরাশিস। বলছেন, ‘মিকি (অভিষেকের ডাকনাম) ভাই আমার পাশে ছিল। বলেছিল, দুশ্চিন্তা না করতে। বোর্ডের ই-মেল অবশেষে আমার আত্মবিশ্বাস ফেরাল। বোঝাল, আমি ভুল ছিলাম না।’
বেঙ্গালুরুতে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে এমার্জিং এই টুর্নামেন্ট লাল বলের ক্রিকেটে ভবিষ্যতের টিম ইন্ডিয়া গড়ে তোলার প্রাথমিক ধাপ। ৪টি দল তিনটি চারদিনের ম্যাচ খেলবে। হাজির থাকবেন সিনিয়র নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর ও জুনিয়র নির্বাচক কমিটির সদস্যরা। এই টুর্নামেন্টের পর ভারতের এমার্জিং দল চারদিনের ম্যাচের সিরিজ খেলতে যাবে শ্রীলঙ্কা সফরে। ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেট দল তৈরি করার প্রকল্পে বড় দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত সৌরাশিস।
Chess Grandmaster | পশ্চিমবঙ্গের দাবার মুকুটে যোগ হল নতুন পালক, দেশের ৯৫তম গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন কলকাতার আরণ্যক ঘোষ
