কলকাতা: নিজের বহুদিনের সঞ্চয়কে নিরাপদে রাখতে এখনও দেশের একটা বড় অংশের মানুষের প্রধান ভরসার জায়গা হল ফিক্সড ডিপোজিট। শেয়ার বাজার বা অন্য কোনো ধরনের সিক্যিওরিটিতে বিনিয়োগের তুলনায় আমাদের দেশে অনেক বিনিয়োগকারীই এখনও ফিক্সড ডিপোজিটের উপর ভরসা রাখেন। কারণ, ফিক্সড ডিপোজিট বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সুদ দিয়ে থাকে। বিশেষ করে যাঁরা মূলধন সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেন এবং স্বল্প বা মধ্যমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনা করেন, তাঁদের কাছে ফিক্সড ডিপোজিট একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
আরও পড়ুন: শুধু কর জমা নয়, আয়কর রিটার্ন ফাইল করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায় জানেন কি?
ফিক্সড ডিপোজিটের অন্যতম বড় সুবিধা হল নির্দিষ্ট সুদের হার। এ ছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদের জন্য ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগ করা যায় ও ফিক্সড ডিপোজিট কিন্তু সেভিংস অ্যাকাউন্টের তুলনায় বেশি রিটার্নও দিয়ে থাকে। তবে বর্তমানে সরকারি, বেসরকারি এবং স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্কগুলোর মধ্যে সুদের হারে বেশ অনেকটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে বিনিয়োগের আগে কোন ব্যাঙ্ক কত সুদ দিচ্ছে, সেই অফার তুলনা করা জরুরি।
১ বছরের জন্য যে ফিক্সড ডিপোজিট করা যায়, সেই ক্ষেত্রে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB), এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং কানাড়া ব্যাঙ্ক ৬.২৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া দিচ্ছে ৬.৫০ শতাংশ, ইয়েস ব্যাঙ্ক ৬.৬৬ শতাংশ এবং ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক ৬.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: EPFO 3.0 এলে মুহূর্তে PF তোলা যাবে UPI-তে, বড় ডিজিটাল বদলের পথে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড
অন্যদিকে স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্কগুলির ক্ষেত্রে সুদের হার অনেক বেশি আকর্ষণীয়। সূর্যোদয় স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক ১ বছরের ফিক্সড ডিপোজিটে সুদ দিচ্ছে ৭.২৫ শতাংশ । এই তালিকায় যা সর্বোচ্চ। উৎকর্ষ স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক ১৮১ থেকে ৩৭০ দিনের আমানতে ৬ শতাংশ সুদ অফার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বেশি সুদের হার দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যাঙ্কের নির্ভরযোগ্যতা, আমানতের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনে ফিক্সড ডিপোজিট সময়ের আগে ভাঙার সুবিধা এবং অন্যান্য শর্তও বিবেচনা করা খুবই জরুরি। কারণ সুদের হার কিন্তু বিনিয়োগের মেয়াদ ও ব্যাঙ্ক বদলালে বদলে যেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যাঁরা নিরাপদ ও স্থিতিশীল রিটার্ন খুঁজছেন, তাঁদের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট এখনও একটি কার্যকর বিনিয়োগের মাধ্যম। তবে বিনিয়োগের আগে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সুদের হার ও পরিষেবার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা অবশ্যই দরকার।
