April 21, 2026
240e485968c6e6b1cb1e13eed94ca6c01776751999891338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: শান্তি-বৈঠক নিয়ে দোলাচল জারি। আমেরিকা যেখানে হুমকি দিয়ে চলেছে, সেখানে একরকম নির্বিকার ইরান। আর সেই পরিস্থিতিতেই চাঞ্চল্যকর দাবি করল আমেরিকা। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একটি জাহাজ আটক করেছে আমেরিকার নৌবাহিনী, যাতে  ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক বোঝাই করা ছিল। চিন থেকে ওই জাহাজ ইরানে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে আমেরিকা। (US Seizes Iranian Ship in Hormuz)

সপ্তাহান্তে ওমান উপসাগরে MV Touska নামের ওই জাহাজটি আটক করা হয় বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সদস্যা, সাউথ ক্যারোলাইনার প্রাক্তন গভর্নর তথা রাষ্ট্রপুঞ্জে আমেরিকার প্রাক্তন প্রতিনিধি নিক্কি হেলি। তাঁর দাবি, গত ছ’সপ্তাহে দু’-দু’বার ওই জাহাজটি দক্ষিণের ঝুহাই প্রদেশের বন্দরে নোঙর করে। সম্প্রতি সেটি ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে রওনা দিয়েছিল। বার বার থামতে বলা হলেও, সেটি এগিয়ে যাচ্ছিল বলে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন নিক্কি। (US-Iran War)

যুদ্ধে চিন যে ইরানকে সাহায্য় করছে, সে ব্যাপারে আর কোনও নেই বলে দাবি করেছেন নিক্কি। তিনি লেখেন, ‘আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, চিন ইরানকে সাহায্য় করছে। এই সত্য আর অস্বীকার কার যাবে না’। 

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘Touska নামের ইরানের পতাকা লাগানো একটি ৯০০ ফুট লম্বা, যুদ্ধবিমান কেরিয়ারের সমান ওজনের একটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। জাহাজটি সম্পূর্ণ ভাবে আমেরিকার হেফাজতে রয়েছে। বেআইনি কাজকর্মে যুক্ত থাকার রেকর্ড রয়েছে জাহাজটির’।

Wall Street Journal জানিয়েছে, ইরানের পতাকা লাগানো যে জাহাজটি আটক করেছে আমেরিকার নৌবাহিনী, সেটি একটি ছোট আকারের জাহাজ, যা ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান শিপিং লাইন্সের অংশ। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জাহাজটির উপর। অন্য দিকে Marine Traffic-এর তথ্য বলছে, রবিবার ওমান উপসাগরে, চবাহার বন্দরের অদূরে জাহাজে ওঠেন অনেকে।  

যদিও আমেরিকা ‘সশস্ত্র জলদস্যু’র মতো আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। তারা জানিয়েছে, জাহাজটি চিন থেকে আসছিল বলে মেনে নিয়েছে তারাও। তেহরানের সাফ দাবি, যত ক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা হরমুজ থেকে অবরোধ না তুলছে, তত ক্ষণ পর্যন্ত ইসলামাবাদে আমেরিকার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দেবে না তারা। তেহরান জানিয়েছে, আমেরিকার আগ্রাসন প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু জাহাজটিতে কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের লোকজন রয়েছেন। তাই হাত গুটিয়ে থাকতে হচ্ছে।

আমেরিকার নিরাপত্তা বিভাগের এক আধিকারিক এ নিয়ে মুখ খুলেছেন সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে। তিনি জানিয়েছেন, এশিয়া থেকে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় বেরোয় জাহাজটি। সম্ভবত ‘Dual-use’ সামগ্রী ছিল তাতে। ঠিক কী বোঝাই করা ছিল, তা যদিও খোলসা করেননি ওই আধিকারিক। তবে আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ড যে তালিকা দিয়েছে, তাতে বিভিন্ন ধাতু, পাইপ, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, শিল্পসামগ্রী ছিল। চিনের বিরুদ্ধে এর আগেও যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করার অভিযোগ তুলেছিল আমেরিকা। বেজিংয় যদিও সেই দাবি খারিজ করে দেয়। 

২০১৯ সালের শেষ দিকে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান শিপিং লাইন্স-কে নিষিদ্ধ করে আমেরিকা। তাদের যুক্তি ছিল, ইরানে অস্ত্রশস্ত্র পৌঁছে দেয় যারা, যারা সেই অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত, তারা ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান শিপিং লাইন্স-কে ব্যবহার করে। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত সামগ্রীও পরিবাহিত হয় বলে দাবি করেছিল তারা। 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks