June 18, 2026
8c3c57656c5ce2a81eec8a217547b7e4178180032372350_original.jpg
Spread the love


সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ময়দানকে দুর্নীতিমুক্ত করতে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে (Indranil Khan) খোলা চিঠি লিখেছিলেন। ক্রীড়ামন্ত্রী সেই চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, তিনি দ্রুত এ ব্যাপারে আলোচনায় বসবেন।

সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য অভিষেক ডালমিয়া ফের খেলার মাঠে স্বচ্ছতার অভিযান চালানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিবৃতি দিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মনে করিয়ে দিলেন, ময়দানকে কলুষমুক্ত করার সময় চলে এসেছে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, অভিষেকের বিবৃতি এল এমন এক দিনে, যার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে ক্রীড়ামন্ত্রীর নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। তাঁরা ইন্দ্রনীল খাঁকে একটি চিঠিও দিয়েছেন। যে চিঠির ছত্রে ছত্রে পরিচ্ছন্ন সিএবি-র বার্তা দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়া, অভিযোগ উঠলে সঠিক তদন্ত না করে বরং তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার মতো ময়দানের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে অভিষেক বোমা ফাটালেও সরাসরি সিএবি-র নাম করেননি। অথচ বুধবার ক্রীড়ামন্ত্রীকে সৌরভরা যে চিঠি দিয়েছেন, সেখানে অভিষেকের ইঙ্গিত যে রাজ্যের ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে, তা কার্যত মেনেই নেওয়া হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়েছে যে, সিএবি পরিচালনা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, ঝকঝকে। কেন অভিষেক খোলা চিঠিতে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনেছেন, তা নিয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করা হয় সৌরভদের জমা দেওয়া চিঠিতে।

বৃহস্পতিবার অভিষেক ফের বিবৃতি দিয়েছেন। এবং ফের শট খেলেছেন ‘ভি’ এর মধ্যে। কোথাও সিএবি-র নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু দুর্নীতি যে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে, ফের সেই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে লিখে দিলেন।

যে অভিযোগগুলির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হল, সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাওয়া। অভিষেক লিখেছেন, ‘আমি আবার বলতে চাই, ক্রীড়াবিদ ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে সুযোগ পাইয়ে দেওয়া বা দলে রাখার বিনিময়ে টাকা তোলার আগে সকলকে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করা উচিত। এমন কোনও ভনিতা করা বন্ধ হোক যে, এরকম ঘটনা ঘটেনি। এরকম কিছু হয়নি দাবি করাটা অবাস্তব। আসল প্রশ্ন হল এগুলোর মোকাবিলা করার মতো সৎসাহস ও পদ্ধতি রয়েছে কি না।’

অভিযোগ জানানোর স্বচ্ছ পদ্ধতি থাকা উচিত বলেও চাঁচাছোলা ভাষায় জানিয়েছেন অভিষেক। লিখেছেন, ‘খেলোয়াড়, অভিভাবক, কোচ ও কর্মকর্তাদের অবশ্যই ভয়ডরহীনভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর স্বাধীনতা থাকা উচিত। যদি ভুয়ো পরিচয়পত্র, নথি দিয়ে বা অসদুপায়ে স্থানীয়দের বঞ্চিত করে কেউ সুযোগ করে নেয়, তাহলেও সত্যিটা সামনে আসা জরুরি। ভুয়ো পরিচয়পত্র বানানো শুধু অনুচিতই নয়, অপরাধ। আইনি পথে এর মোকাবিলা করা উচিত।’

যা শুনে সিএবি-র একটা অংশ মনে করছে, ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে ভিন রাজ্যের প্লেয়ারদের স্থানীয় ক্রিকেট খেলা নিয়ে যে ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠে, সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন অভিষেক।

সিএবি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি আপোসহীন ছিলেন এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রায় ৫০ জনকে নির্বাসিত করেছিলেন, ফের সেটা জানিয়েছেন অভিষেক। সঙ্গে লিখেছেন, ‘কোনও ক্রীড়া সংগঠন এককভাবে এই যুদ্ধ করতে পারবে না। তাই দুর্নীতিদমনে কর্তৃপক্ষের হেল্পলাইন চালু করা আবশ্যিক। যারা ছোট ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেয়, তাদের মুখোশ খুলে দিতে হবে।’

অভিষেক লিখেছেন, ‘আমি আগেও বলেছি, স্বচ্ছতার অভিযান চালানোর সময় এসে গিয়েছে। আমাদের খেলোয়াড়দের প্রতিভা, সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার বিনিময়ে সুযোগ পাওয়া উচিত। ময়দানে আমরা পবিত্রতা চাই। বাংলার খেলোয়াড়দের মঙ্গল হোক।’

এদিকে, সিএবি-র অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আইনজীবী প্রাঞ্জল পাল। সৌরভ ঘনিষ্ঠ এই ক্রিকেট কর্তা সিএবি-র অ্যাপেক্স কাউন্সিলে থেকেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-২০ টুর্নামেন্ট বেঙ্গল টি-২০ লিগের দল পুরুলিয়া নোভাস রয়্যালসের সঙ্গে যুক্ত। যা নিয়ে জলঘোলা চলছে। সিএবি-র ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের কাছে সেই অভিযোগের শুনানি চলছে। তারই মাঝে এক সাংবাদিক সেই খবর লেখার জন্য সুরজিৎ তাঁকে ‘হুমকি’ দিয়েছেন বলে নাগেরবাজার থানায় FIR দায়ের হল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks