নয়াদিল্লি: পেটের যন্ত্রণায় লাগাতার ছটফট করছিলেন। রোগ নির্ধারণ করতে গিয়ে চমকে উঠলেন চিকিৎসকরা। স্ক্যান করে দেখা গেল, ওই যুবকের পেটের মধ্যে একটি থার্মোমিটার আটকে রয়েছে। অস্ত্রোপচার করে ওই থার্মোমিটার বের করে আনলেন চিকিৎসকরা। ওই ছবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। (Thermometer Swallowed by Man)
চিনের ঝেজিয়াং থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। ৩২ বছর বয়সি ওই যুবকের পদবী ওয়াং। জানা গিয়েছে, আজ থেকে ২০ বছর আগে, পারদযুক্ত একটি থার্মোমিটার গিলে ফেলেছিলেন। ছোট্ট বয়সে ভয়ে সেকথা কাউকে বলতে পারেননি তিনি। মা-বাবার কাছেও চেপে যান গোটা বিষয়টি। (Viral News)
লাগাতার পেটের যন্ত্রণা হওয়ায় একসময় হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওয়াং। সেই মতো ওয়েংঝৌ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির শাখা লংগাংয়ে চিকিৎসা করাতে যান তিনি। সেখানে স্ক্যান করা হলে দেখা যায়, তাঁর পাকস্থলীর ঠিক নীচের অংশে কিছু একটা আটকে রয়েছে। গোড়াতেই সেটি থার্মোমিটার বলে সন্দেহ হয় চিকিৎসকদের। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সন্দেহই সত্য বলে ধরা পড়ে।
চিকিৎসকরা দেখেন, থার্মোমিটারের মাথার অংশটি অন্ত্রের প্রাচীরে একেবারে চেপে রয়েছে। এমনভাবে সেটি অবস্থান করছে যে ক্ষত তৈরি হলে, ইন্টারনাল ব্লিডিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। কী করে থার্মোমিটার পেটে গেল, তা জানতে চাইলে, ওয়াং জানান, ১২ বছর বয়সে থার্মোমিটার গিলে ফেলেছিলেন তিনি। ভয়ে বলতে পারেননি মা-বাবাকে।
ঘটনার সময়ে ওয়াংয়ের মা-বাবাও কর্মব্যস্ত ছিলেন। কোনও সমস্যা হয়নি বলে ওয়াংও বিষয়টি ঝেড়ে ফেলেন মাথা থেকে। ৩২ বছর বয়সে এসে হঠাৎই পেটের যন্ত্রণা শুরু হয়। তাতেই চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হন তিনি। অস্ত্রোপচার করে ওয়াংয়ের পেট থেকে থার্মোমিটারটি বের করে আনেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার বেশ জটিলই ছিল। কারণ থার্মোমিটারটি পিত্তনালীর কাছে ছিল। একটু এদিক ওদিক হলে ভয়ঙ্কর বিপদ হতে পারত।
থার্মোমিটারটি অক্ষত অবস্থাতেই বের করে আনা হয় ওয়াংয়ের পেট থেকে। তবে তার উপরের মাপদণ্ডের দাগগুলি সব মুছে গিয়েছিল। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিছু যদি ভুল করে গিলেও ফেলে থাকেন কেউ, সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া এবং পান করা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হতে হবে।
