কলকাতা: আয়কর রিটার্ন (ITR) ফাইল করাকে অনেকেই শুধুমাত্র কর সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা বলেই মনে করেন। এমন এক কাজ যা বছরে একবার করতে হয়। কিন্তু বাস্তব বলছ অন্য কথা। আসলে আইটিআর কেবল মাত্র কর জমা দেওয়ার কোনো কাজ নয়। আয়কর রিটার্ন একজন ব্যক্তির আর্থিক পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবেও কাজ করে। যে কারণে, যে ব্যক্তির উপার্জন আয়করের সীমা থেকে অনেক কম, তিনিও আয়কর রিটার্ন ফাইল করেন। ঋণ পাওয়া থেকে শুরু করে বিদেশে ভিসার আবেদন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আইটিআর কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: ১ বছরের ফিক্সড ডিপোজিটে কোন ব্যাঙ্ক দিচ্ছে বেশি সুদ? বিনিয়োগের আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেয়ার বাজার বা নির্দিষ্ট সম্পদ বিক্রি করে কারও যদি লোকসান হয়, তাহলে সেই ক্ষতিকে আগামীতে হতে চলে কোনও লাভের সঙ্গে যুক্ত করারও একটা সুযোগ দেয় আয়কর রিটার্ন ফাইল। তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আইটিআর জমা করা বাধ্যতামূলক। স্বল্পমেয়াদি কোনও বিনিয়োগ থেকে যদি ক্ষতি হয় তা যে কোনও স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লাভের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। আবার দীর্ঘমেয়াদি কোনও বিনিয়োগ থেকে যদি ক্ষতি হয় তা শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লাভের সঙ্গেই সমন্বয় করা যে। আর এতে করের পরিমাণও কমে যায় উল্লেখযোগ্য ভাবে।
কোনও ব্যাঙ্ক বা নন ব্যাঙ্কিং ফাইন্যান্সিয়াল সংস্থা থেকে হোম লোন, পার্সোনাল লোন কিংবা অন্য কোনও ঋণের আবেদন করলে সাধারণত গত কয়েক বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। এর মাধ্যমে আবেদনকারীর আয় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করে ঋণদাতা সংস্থা। ফলে নিয়মিত আয়কর রিটার্ন ফাইল করা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ুন: EPFO 3.0 এলে মুহূর্তে PF তোলা যাবে UPI-তে, বড় ডিজিটাল বদলের পথে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড
আবার অনেক ক্ষেত্রে টিডিএস বা অগ্রিম কর হিসেবে অনেক বেশি টাকা জমা পড়ে যায় সরকারের ঘরে। সেই অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পেতে আয়কর রিটার্ন ফাইল করাই একমাত্র উপায়। এ ছাড়াও পিপিএফ, এনপিএস বা ইএলএসএস-এর মতো বিনিয়োগের উপর কর ছাড় নেওয়ার একমাত্র পথ হল আয়কর রিটার্ন ফাইল করাই।
এ ছাড়াও বিদেশে কেউ যদি ভিসার আবেদন করতে চায়, তাহলেও অনেক ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন ফাইলকে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অনেক দেশই ভিসার আবেদনকারীর অর্থনৈতিক অবস্থা যাচাই করতে আয়কর রিটার্ন জমা করার প্রমাণ চায়। এর পাশাপাশি যে কোনও ব্যক্তির আর্থিক স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সরকারি রেকর্ড তৈরি করে কিন্তু আয়কর রিটার্ন ফাইল। যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রয়োজনে কাজে লাগে।
আর সেই কারণেই আয়কর রিটার্ন ফাইলিংকে শুধু কর জমার প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
