মেলবোর্ন: প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে বক্সিং ডে টেস্টে ফের একবার অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্বের দায়ভার সামলেছিলেন স্টিভ স্মিথ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্মিথের রেকর্ড বরাবরই অনবদ্য। তবে পয়মন্ত সেই মাঠে স্মিথ বড় রান করতে ব্যর্থ। দুই দিনেরও কম সময়ে পরাজিত হল তাঁর দলও।
লো স্কোরিং ম্যাচে স্টিভ স্মিথ প্রথম ইনিংসে মাত্র নয় রানে আউট হন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি এক পাশে ২৪ রানে অপরাজিত থাকলেও অপরপ্রান্তে কেউ তাঁকে সঙ্গ দেননি। তবে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৩৩ রান করলেও, এই ম্যাচেই কিংবদন্তি অজ়ি ক্রিকেটার অ্যালান বর্ডারকে পিছনে ফেলে দিলেন স্টিভ স্মিথ। তিনি অ্যাশেজে (Ashes 2025-26) অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক রানসংগ্রাহক হয়ে গেলেন।
বর্ডার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৭ টেস্টের ৮২টি ইনিংসে ৩৫৪৮ রান করেছিলেন। তাঁর গড় ছিল ৫৬.৩১। অ্যাশেজে আটটিও শতরান হাঁকিয়েছিলেন বর্ডার। সেই বর্ডারকেই পিছনে ফেললেন স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ৪০ টেস্টে ৫৫.৫১ গড়ে ৩৫৫৩ রান করেছেন। ১২ শতরানের পাশাপাশি ইংরেজদের বিরুদ্ধে ৭২ ইনিংসে ১৪টি অর্ধশতরানও হাঁকিয়েছেন তিনি।
তবে এই ম্যাচ ইংল্যান্ড জিতলেও মেলবোর্নের পিচ নিয়ে সমালোচনার ঝড়। মেলবোর্নে প্রথম দিনে ২০টি উইকেট পরে। ১৯০২ সালের পর এই প্রথম অ্যাশেজের কোনও টেস্টের একদিনে ২০টি উইকেট পড়ল। এর আগে ভারতের মাটিতে ইডেন টেস্ট আড়াই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রবল সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তাহলে মেলবোর্ন পিচ নিয়ে কেন সমালোচনা হবে না, এই নিয়েই প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেভিন পিটারসন (Kevin Pietersen)। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘ভারতে টেস্টের প্রথম দিনে যদি পাগলের মতো উইকেট পড়ে তাহলে তো সমালোচনার ঝড় উঠে। তাই আমি আশা করি এবার অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও তেমনই কাটাছেঁড়া হবে।’
বক্সিং ডে টেস্ট মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়াটা একেবারেই আদর্শ নয় বলে ম্যাচ জিতেও একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন ইংল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক বেন স্টোকসও (Ben Stokes)। তিনিও কার্যত পিটারসেনের সুরেই কথা বলেন।
ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে এমনটা তো কেউ চায় না। দুই দিনেরও কম সময়ে বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়াটা একেবারেই কাম্য নয়। আদর্শ নয়। তবে ম্যাচ শুরু হয়ে গেলে তো আর কিছু করার থাকে না, যা আছে, সেখানেই খেলতে হবে। তবে আমি নিশ্চিত এটা যদি পৃথিবীর অন্য কোথাও হত, তাহলে এতক্ষণে ঝড় উঠে যেত। পাঁচ দিনের ম্য়াচের জন্য এটা একেবারেই তো ঠিক নয়। সৌভাগ্যবশত আমরা এমন ধরনের ক্রিকেট খেলেছি, যেটাতে আমরা ম্য়াচ জিততে সক্ষম হয়েছি।’
