August 4, 2026
f5ed980cc6f9d436bfe96b00a90fb2f81775468630925394_original.jpg
Spread the love


Gold Making In Lab : অনেকদিন ধরেই বাজারে চলছিল এই জল্পনা। এবার সেই জল্পনাই বাস্তবে রূপ পাচ্ছে। হিরের মতো এবার ল্যাবে তৈরি হবে সোনা। তবে তা কৃত্রিম নয়, একেবারে খাঁটি। এতে কি সুবিধা হবে ক্রেতাদের ? দাম কমবে সোনার গয়নার ?

কী এই ল্যাবে তৈরি সোনা ?
মার্কেট এক্সপার্টরা বলছেন, খনি থেকে তোলা সোনার মতোই হল ল্যাবে তৈরি সোনা। এতে প্রাকৃতিক সোনার মতোই সব উপাদান থাকবে। তবে এটি তৈরি হবে পুরো অত্যাধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে। যেখানে ল্য়াবের ভিতর প্রাকৃতিক উপায়ে চাপ দিয়ে তৈরি হবে কেমিক্যাল সোনা। যদিও তা বিশুদ্ধতায় সাধারণ সোনার মতোই খাঁটি হবে। খনি থেকে চিরাচরিত উপায়ে তোলা সোনার মতো এই সোনা হবে না। উল্টে ল্যাবে বিভিন্ন উপায়ে রাসায়নিকের মাধ্যমে ধাতুর আণবিক কাঠামো পরিবর্তন করা হবে। অনেক ক্ষেত্রে নিউক্লিয়ার ট্রান্সমিউটেশনের মাধ্যমেও এই সোনা তৈরি হবে।  আসলে নির্দিষ্ট রাসায়নিকের আণবিক কাঠামো পরিবর্তন করার নামই ‘নিউক্লিয়ার ট্রান্সমিউটেশনে’।  

ল্যাবে তৈরি সোনা কি আসল সোনা ?
সম্প্রতি ল্যাবে তৈরি সোনার খবর সামনে আসতেই সবার মধ্যে একটি প্রশ্ন জেগে উঠেছে। এই সোনা কি আদৌ আসল সোনা ? হ্য়াঁ, ল্যাবে তৈরি সোনাও খাঁটি সোনা। এই রাসায়নিক সোনাও খনিতে পাওয়া সোনার সমান। ঘনত্ব, বিশুদ্ধতা ও আণবিক পরিকাঠামোগত বিষয়ে এই সোনা (২৪ ক্যারেট গোল্ড) খনির সোনার মতোই সমান। দুই ক্ষেত্রেই সোনার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য় সমান রয়েছে। তা গয়না তৈরির ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে।  

কীভাবে ল্যাবে তৈরি হয় সোনা
ল্য়াবে মার্কারি বা প্ল্যাটিনাম থেকে এই সোনা তৈরি করা হয়। একদম নিয়ন্ত্রিত ল্য়াবে গবেষকদের দ্বারা এই ল্যাবের সোনা তৈরি করা হয়। সেই ক্ষেত্রে প্ল্যাটিনামকে নিউক্লিয়ার রিয়াক্টর বা পারমাণবিক চুল্লিতে রেখে ক্রমাগত উচ্চ শক্তির কণার মাধ্যমে আঘাত করা হয়। এতে অ্য়াটমে থাকা প্রোটোনের সংখ্যা বেড়ে যায় ও এক শক্তি থেকে অন্য শ্ক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মনে রাখবেন, ল্য়াবে তৈরি এই সোনা খনি থেকে তোলা গোল্ডের সমান। তবে এর উৎপাদিত পরিমাণ অত্যন্ত কম ও অস্থিতিশীল।

এই প্রসঙ্গে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ল্য়াবের গোল্ড নিয়ে একটি ভিডিয়োতে বিশ্লেষণ করেছেন উইকেন্ড ইনভেস্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা অলোক জৈন। তাঁর মতে, গোল্ড গঠনগতভাবে হিরের থেকে আলাদা। হিরে আসলে স্ট্রাকচারড কার্বন, কিন্তু সোনা হল একটি মৌলিক পদার্থ। এটি সহজে আপনি ল্যাবে তৈরি করতে পারবেন না। এটি ল্য়াবে তৈরি করতে আপনাকে পারমাণবিক স্তরের প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। যেখানে সোনার পরিকাঠামোগত মৌলগুলি আণবিক পর্যায়ে পরিবর্তিত হবে। 

এই সোনা দিয়ে গয়না তৈরি করা যাবে ? 
এরপরও আপনি গয়না তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণে সোনা ল্যাব থেকে পাবেন না। খুব চেষ্টার পর, আপনি আণুবীক্ষণিক অস্থিতিশীল মৌল ল্য়াব গোল্ড হিসাব পাবেন। যা সোনার গয়নার তৈরির জন্য যথেষ্ট নয়। হিরের ক্ষেত্রে যা আমরা সহজেই ল্য়াব থেকে পেয়েছি, তা ল্যাব গোল্ডে এখনই সম্ভব নয়। এটি একটি গবেষণার পরীক্ষামূলক স্তর মাত্র। এর বাণিজ্যিকীকরণ হতে অনেক সময় বাকি। তাই কল্পনা ও বাস্তবের মধ্যে এখন অনেক ফারাক রয়েছে। 

কোথায় বাধা ল্যাব গোল্ড তৈরির ক্ষেত্রে
বর্তমানে ল্য়াবে সোনা তৈরি একটি অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়। যেখানে মার্কারি বা প্ল্যাটিনামের মৌলিক গঠন পাল্টাতে আণবিক চুল্লির প্রয়োজন। এই ধরনের সামান্যতম সোনা তৈরি করতে লক্ষাধিক ডলারের প্রয়োজন হয়, যা খনি থেকে সোনা তোলার তুলনায় কয়েকশো গুণ বেশি। সেই কারণে ল্য়াবে তৈরি হিরের গয়নার বাজার থাকলেও এই ধরনের সোনার গয়নার বাজার এখনই তৈরি হবে না।

কোন সোনার বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি
প্রাথমিক পর্যায়ে খনি থেকে তোলা গয়নার ওপরই মানুষের বেশি বিশ্বাস থাকবে। কারণ এই সোনার গয়নায় মানুষ শতাধিক বছর ধরে বিশ্বাস করে আসছে। সহজেই এটি বাজারে বিক্রি করা যায়। বুলিয়ান বাজারে সোনার একটি বড় মার্কেট রয়েছে। যেখানে ল্য়াব গোল্ডকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই বহু বছর লাগবে। এর বিশুদ্ধাতা বোঝাতেই প্রথমে সমস্যা হবে বাজারের। তাই এখন মশকরা করে বলা যেতেই পারে ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’। 

(তথ্য সূত্র- বিজনেস টুডে)

     



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks