নয়াদিল্লি: যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাময়িক ছাড়পত্র মিলেছিল। কিন্তু ইরান এবং রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে আর ছাড়পত্র দিতে নারাজ আমেরিকা। ফলে ভারতও আর রাশিয়া এবং ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে পারবে না। হোয়াইট হাউসের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, ছাড়পত্রের মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হবে না। (Russian Oil)
বুধবার আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আর ছাড়পত্র মিলবে না। তিনি বলেন, “রাশিয়ার তেল কেনার জেনারেল লাইসেন্স রিনিউ করব না আমরা, উরানের তেল কেনার জেনারেল লাইসেন্সও রিনিউ করা হবে না। ১১ মার্চের আগে যে তেল জলভাগে ছিল, সেই তেলেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল শুধু। সেই ছাড়পত্রের ব্য়বহার সম্পূর্ণ হয়েছে।” (US-Iran War)
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের তরফে প্রথমে ইরানে হামলা চালানো হয়। হত্যা করা হয় দেশের তদানীন্তন সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে। সেই থেকে একটানা বন্ধ ছিল হরমুজ প্রণালী,যার দরুণ জ্বালানি সঙ্কট নেমে আসে বিভিন্ন দেশের উপর। ভারতেও জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেয়।
সেই পরিস্থিতিতে সাময়িক ছাড়পত্র দেয় আমেরিকা। ১১ মার্চ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল নিয়ে যে সব জাহাজ সমুদ্রে নেমে পড়ে, সেগুলি থেকে তেল কেনা যাবে বলে জানানো হয়। এক মাসের জন্য ওই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল সেই সময়। সেই নিরিখে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ ছিল ওই ছাড়পত্রের।
একই ভাবে গত ২০ মার্চ আমেরিকার ট্রেজারি বেঞ্চের তরফে ইরানেরতেল কেনায় সাময়িক ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে জানানো হয় সেইসময়। ইরানের তেলের উপর ওই ছাড়পত্রের মেয়াদ ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এই সময় ছাড়পত্রের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার কথা যে বলা হচ্ছে, তাও আমেরিকার কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। সমঝোতায় তেহরানকে রাজি করাতেই চাপসৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
আমেরিকার তরফে ছাড়পত্র মেলায় রাশিয়া এবং ইরান, দুই দেশের কাছ থেকেই তেল কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারত। ওই সময়সীমার মধ্যে ভারতের বিভিন্ন তৈল শোধনাগারের তরফে ৩০ মিলিয়ন ব্য়ারেল তেলের বরাত দেওয়া হয়। মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে দৈনিক ১.৯৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এসে পৌঁছয়। এমনকি Reliance-ও রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে শুরু করে। পাশাপাশি, ইরানের তেল নিয়ে ভারতে ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে এসে পৌঁছয় দু’টি ট্যাঙ্কার। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার জেরে সাত বছর পর ইরান থেকে তেল এসে পৌঁছয় ভারতে।
ইকনমিক টাইমসের রিপোর্ট বলছে, ভারত, ফিলিপিন্সের মতো এশিয়ার বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যেই ছাড়পত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে আবেদন জানিয়েছে আমেরিকার কাছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে যাতে বন্ধ না হয়, অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমেরিকার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এই মুহূর্তে তাকিয়ে সকলে।
