কলকাতা: ইতিমধ্যেই ভারতকে পিছনে ফেলে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম শেয়ার বাজারের তকমা অর্জন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্ববিখ্যাত এক সংবাদ সংস্থা বলছে, ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার স্টক মার্কেটের তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর মোট মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ভারতের বাজারের সংস্থাগুলোর বাজারমূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার কেন এই উত্থান?
আরও পড়ুন: ১ বছরের ফিক্সড ডিপোজিটে কোন ব্যাঙ্ক দিচ্ছে বেশি সুদ? বিনিয়োগের আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
দক্ষিণ কোরিয়ার এই উত্থানের কারণ খুঁজতে গেলে সবার আগে দেখতে হবে ভারতের বাজারের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারের ঠিক কী পার্থক্য। যদি ভারতের শেয়ার বাজারের প্রথম ৭ টি সংস্থাকে দেখা হয়, এর মধ্যে আসে রিলায়েন্স, এইচডিএফসি ব্যাংক, ভারতী এয়ারটেল, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেস ও বাজাজ ফাইন্যান্স। এর মধ্যে TCS বা টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেস ছাড়া অন্য কোনও সংস্থা প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত নয়। আর TCS-ও সফটওয়্যার সংস্থা। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম ৭ টি সংস্থাগুলোর মধ্যে ৬ টিই টেকনোলজি বা অটোমোটিভ বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সংস্থা। স্যামসং, হাইনিক্স, হুন্ডাই, এসকে স্কোয়্যার, এলজি এনার্জি, কিয়া কর্পোরেশন রয়েছে প্রথম ৭-এর মধ্যে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে এর মধ্যে একাধিক সংস্থা AI বিপ্লবের সঙ্গে জড়িয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্সের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা সংস্থাগুলোই তাদের দেশের বাজারের অর্ধেক দখল করে বসে রয়েছে। একই ভাবে চিপের চাহিদা বাড়ার কারণে মূল্য বেড়েছে তাইওয়ানের TSMC-এরও। আমেরিকান সংস্থা Nvidia-এর একারই বাজারমূল্য ভারতের শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্যের থেকেও বেশি।
আরও পড়ুন: শুধু কর জমা নয়, আয়কর রিটার্ন ফাইল করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায় জানেন কি?
অন্যদিকে, ভারত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও, সেটা সফটওয়্যার ভিত্তিক। AI-এর প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার এখনও ভারতে সেই ভাবে উৎপাদন হয় না। দেশের বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলো, যেমন TCS, ইনফোসিস, উইপ্রো মূলত পরিষেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ, গ্রাহকদের জন্য AI ভিত্তিক সমাধান তৈরিতে সিদ্ধ হস্ত তারা। কিন্তু AI-এর প্রয়োজনীয় চিপ বা হার্ড ওয়্যার তৈরি করে না তারা। অর্থাৎ, ভারতে কিন্তু একটা Nvidia বা TSMC না থাকার কারণেই এক ধাক্কায় অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছি আমরা।
তবে, এর মধ্যে একটা আশার আলোও আছে। ভারত সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তুলতে বিরাট উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর আওতায় ৭৬,০০০ কোটি টাকার ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছে সরকার। গুজরাতে টাটা ইলেকট্রনিক্স, মাইক্রন এবং অন্যান্য সংস্থার প্রকল্প ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বর্তমানে ১৩টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প নির্মাণ বা উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মূল শক্তি ডিজাইন, সফটওয়্যার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পরিষেবা। তবে দক্ষিণ কোরিয়া বা তাইওয়ানের মতো বিশ্বমানের চিপ উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে হলে পরিকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি এবং সম্পূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে আরও সময় লাগবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর মানচিত্রে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
