ওয়াশিংটন : ইরানের সঙ্গে শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা করেছিলেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু, এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াল ওয়াশিংটন। আগাম সতর্কতা হিসাবে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন শুরু করেছে আমেরিকা। কারণ, হরমুজ প্রণালী নিয়ে এখনও দুই পক্ষের চাপান-উতোর রয়েছে। এদিকে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষ-বিরতি শেষ হচ্ছে ২২ এপ্রিল। তাই আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, ডেডলাইন শেষ হলেই কি ফের দুই পক্ষ আবার পুরোদস্তুর যুদ্ধে নামবে ? ট্রাম্প সদ্য যুদ্ধ শেষের কথা বললেও, ওয়াশিংটনের যুদ্ধ-প্রস্তুতি রেখে দেওয়া এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দ্বন্দ্ব এখনই শেষ হচ্ছে না। ওয়াশিংটন পোস্ট অনুয়ায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত বাহিনী পাঠাচ্ছে পেন্টাগন। গল্ফে ইতিমধ্যেই মোতায়েন ৫০ হাজার মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেবে তারা।
প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি’ বলে সদ্যই দাবি করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি এমন দাবিও করেন যে, কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হতে চলেছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই মুহূর্তে যে সংঘর্ষ-বিরতি জারি রয়েছে তা পরের সপ্তাহেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই বিরতি থামানোর প্রয়োজন নাও পড়তে পারে। অর্থাৎ, যুদ্ধে ইতি পড়তে পারে বলে মনে করে ওয়াকিবহাল মহল। ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ক-কে এক ইন্টারভিউতে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, ইরান যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হতে পারে।” কিন্তু, নতুন করে আমেরিকার আরও বাহিনী পাঠানো তাতে জল ঢেলে দিতে পারে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ থামাতে দিনকয়েক আগে উদ্যোগী হয়েছিল আমেরিকা ও ইরান। দুই পক্ষ আলোচনায় বসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে । কিন্তু, প্রথম দফায় কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি উভয়পক্ষ। নতুন করে আবার আলোচনা শুরু করতে পারে দুই দেশ। এমন জল্পনা শুরু হয়। কারণ, এবিষয়ে ওয়াকিবহাল মহল দাবি করছে, কূটনৈতিক স্তরে নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য উভয়পক্ষই উদ্যোগী হয়েছে। সে ক্ষেত্রে খুব তাড়াতাড়ি ফের আলোচনা শুরু করতে পারে ইরান ও আমেরিকা। এমনই আশা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্প এমনকী এও বলেছেন, আসন্ন দু’দিন চমৎকার হতে চলেছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কিছু । কিন্তু, সেই নতুন কিছু কী ?
