June 18, 2026
3601180266c44ede0eb4fb4671573d7017818068769741373_original.jpg
Spread the love


কলকাতা: অবসরের পর আর্থিকভাবে নিশ্চিন্ত জীবন কাটাতে পর্যাপ্ত সঞ্চয় ও সঠিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, অবসরকালীন তহবিলে কত কোটি টাকা থাকলে মাসে লক্ষাধিক টাকা সেখান থেকে তোলা যাবে, যাতে অন্তত ২০ বছর নিশ্চিন্তে চলে যায়? বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা যদি থাকে তাহলে বিনিয়োগের রিটার্ন, টাকা তোলার হার এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে কত লক্ষ টাকা আপনি প্রতি মাসে তুলতে পারবেন সেই তহবিল থেকে।

আরও পড়ুন: আয়কর রিটার্ন দাখিল করলেই দায় শেষ নয়, এই ধরনের খরচের কারণে আপনার কাছে আসতে পারে আয়কর নোটিশ?

সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার অবসরকালীন তহবিল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তবে এই আয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে বিনিয়োগের ধরন এবং কোন বিনিয়োগে কত টাকা রয়েছে, তার উপর।

কম ঝুঁকি নিতে চাইলে ৬৫ শতাংশ ডেট মিউচুয়াল ফান্ডে, ২০ শতাংশ হাইব্রিড ফান্ডে এবং ১৫ শতাংশ ইক্যুইটি ফান্ডে বা সরাসরি শেয়ার বাজারে রাখা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ৪.৫ শতাংশ হারে টাকা তোলা নিরাপদ বলে ধরা হয়। এর ফলে মাসিক আয় হতে পারে প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: জন কল্যাণ শিবির শেষ, অনলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করবেন কীভাবে?

মাঝারি ঝুঁকির বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০ শতাংশ ডেট মিউচুয়াল ফান্ডে, ২৫ শতাংশ হাইব্রিড ফান্ডে এবং ৩৫ শতাংশ ইক্যুইটি ফান্ডে বা সরাসরি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিও তৈরি করা যেতে পারে। এই ধরনের পরিকল্পনায় মাসে প্রায় ৮৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জন হতে পারে।

অন্যদিকে, বেশি ঝুঁকি নিতে রাজি থাকলে ৬৫ শতাংশ ইক্যুইটি ফান্ডে বা সরাসরি শেয়ার বাজারে, ২০ শতাংশ ডেট মিউচুয়াল ফান্ডে এবং ১৫ শতাংশ হাইব্রিড বিনিয়োগের মাধ্যমে বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা থাকে। বছরে ৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা তোলার কৌশলে মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব হতে পারে।

তবে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার তহবিল থেকে টানা ২০ বছর প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি আয় করা সহজ নয়। তার জন্য প্রয়োজন হবে আরও বড় অবসর তহবিল, অনেক বেশি বিনিয়োগ রিটার্ন অথবা বেশি ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসর পরিকল্পনায় শুধু বর্তমান আয় নয়, ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলিও মাথায় রাখা জরুরি। তাই সঠিক সম্পদ বণ্টন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks