নয়াদিল্লি: হরমুজ প্রণালী নিয়ে ফের অবস্থান বদল করল ইরান। হরমুজে ফের বিধিনিষেধ জারি করল তারা। তাদের দাবি, আমেরিকা শর্তভঙ্গ করেছে। এখনও অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। বাধা দেওয়া হচ্ছে বন্দরে জাহাজ ঢোকা এবং বেরনোয়। তাই পুনরায় হরমুজে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। (Strait of Hormuz)
আমেরিকা জানিয়েছে, এখনই ইরানের জাহাজ আটকানো থেকে বিরত হবে না তারা। আর তাতেই, শনিবার নতুন করে হরমুজে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিল ইরান। তাদের জয়েন্ট মিলিটারি কম্যান্ডের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল…সশস্ত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে সেখানে’। আমেরিকা অবরোধ তা তোলা পর্যন্ত, তারাও হরমুজকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করবে না বলে জানিয়েছে ইরান। (Iran Reimposes Restrictions in Hormuz)
কী অভিযোগ ইরানের?
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগও তুলেছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘এক ঘণ্টায় সাত-সাতটি মিথ্যে দাবি করেছেন ট্রাম্প’। কী মিথ্যাচার করেছেন ট্রাম্প, তা যদিও খোলসা করেননি গালিবাফ। আর তার পরই নতুন করে হরমুজে বিধিনিষেধ চাপানো হল। ফলে আবারও জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, শনিবার সকালে হরমুজ পেরোতে ঢুকতে সফল হয়নি চারটি ভারতীয় এবং দু’টি গ্রিক ট্যাঙ্কার। Marine Traffic Data-কে সামনে রেখে এই তথ্য তুলে ধরেছে Bloomberg. কেন জাহাজগুলিকে থামতে হল, কেন মুখ ঘুরিয়ে ফিরে যেতে হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ফিরতে হল ভারতের জাহাজকে
ভারতের চারটি জাহাজ মুখ ঘুরিয়ে ফিরে যেতে শুরু করেছে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। জানা যাচ্ছে, Sanmar Herald, Desh Garima, Desh Vaibhav, Desh Vibhor—এই চারটি জাহাজ দুবাই থেকে হরমুজের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু মুখ ঘুরিয়ে ফিরে যেতে দেখা গিয়েছে তাদের। ইরানের কাসিম দ্বীপের কাছে একাধিক জাহাজ চোখে পড়েছে।
যে দু’টি গ্রিক জাহাজ আটকে গিয়েছে, সেগুলির নাম, Nissos Keros, Minerva Evropi, ওই দু’টি জাহাজে ৮৩ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। ওই ছয়টি জাহাজ হরমুজ পেরোতে পারলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই প্রথম, একদিনে এই বিপুল পরিমাণ তেল বেরিয়ে আসত সেখান থেকে। জাহাজের মালিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোররাতে রেডিওবার্তা পৌঁছয়। জানানো হয়, হরমুজ পেরোতে ইরানের নৌবাহিনীর ছাড়পত্র লাগবে।
